কারখানা বন্ধে জিএসকের লোকসান

0
290

স্টাফ রিপোর্টার : কারখানা বন্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) মুনাফায়। বরাবর মুনাফায় থাকলেও চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে লোকসানে পড়েছে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে এসে বড় ধরনের লোকসান করার বিষয়ে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানান, কারখানা বন্ধের পর কর্মীদের পাওনা (সার্ভিস বেনিফিট) ও অবিক্রীত থাকা ওষুধ অবচয় হিসেবে দেখানোর কারণেই শেয়ারপ্রতি ৪৮ টাকা লোকসান হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বলছে, এ প্রভাব সাময়িক।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। যেখানে আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩৯ টাকা ৭৮ পয়সা।

এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৮ টাকা ৬৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ২০ টাকা ৫০ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮-এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২৯ টাকা ৮৫ পয়সা; যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২০৪ টাকা ৪৩ পয়সা।

উল্লেখ্য, এর আগে এ বছরের ২২ জুলাই হঠাৎ করে ওষুধ কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে প্রতিষ্ঠিত গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন কর্তৃপক্ষ। এরপর ২৭ জুলাই কোম্পানির চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ব্যবসার ৭০ শতাংশই আসে কনজিউমার হেলথ কেয়ার থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ ফার্মাসিউটিক্যালের।

ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের কনজিউমার হেলথ কেয়ারের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

তিনি বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটটি ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক ছিল না। সব ইউনিট মিলে আমাদের যে মুনাফা হয়, কনজিউমার হেলথ কেয়ারে মুনাফার পরিমাণ তার থেকেও বেশি। কনজিউমার হেলথ কেয়ারের মুনাফা থেকে ফার্মাসিউটিক্যালের লোকসান বাদ দিয়ে মোট মুনাফা দেখানো হয়। সে হিসাবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হলেও সামনে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের মুনাফা বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন। এক বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয় ৫৫ টাকা ৫৬ পয়সা ও এনএভিপিএস ২১৮ টাকা ৩৫ পয়সা।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন। সে হিসাব বছরে কোম্পানির ইপিএস হয় ৫৩ টাকা ৫১ পয়সা ও এনএভিপিএস ২১৪ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০১৫ হিসাব বছরের জন্য ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৪ হিসাব বছরে ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ২০১৩ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের শেয়ারহোল্ডাররা।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এর দর ১ হাজার ২০০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ হাজার ৬৯ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে। ডিএসইতে বৃহস্পতিবার শেয়ারটির সর্বশেষ দর ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ৩০ টাকা ২০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০ টাকায়। দিনভর দর ১ হাজার ৫৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ১ হাজার ৬৯ টাকা ৮০ পয়সা; যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১ হাজার ১০০ টাকা ২০ পয়সা। এদিন ৯৫ বারে এ কোম্পানির মোট ৩৭৭টি শেয়ারের লেনদেন হয়।

এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১ হাজার ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ দর ১ হাজার ৭০০ টাকা ১০ পয়সা।

গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি। এর মধ্যে ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশই কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৫ দশমিক ৫৫, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ২৪ ও মাত্র ১ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১৯ দশমিক ২৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here