কারখানা বন্ধের খবরে আলহাজ টেক্সটাইলের শেয়ার দরে পতন

0
115

স্টাফ রিপোর্টার : সাম্প্রতিক সময়ে গেম্বলিং শেয়ার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারে বড় দর পতন হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৬ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সার্কিট ব্রেকারের প্রায় শেষ সীমা ছুঁয়েছে। ডিএসইতে শেয়ারটির দাম কমেছে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। সার্কিট ব্রেকারের কারণে একদিনে এরচেয়ে বেশি দর কমার সুযোগ নেই। নইলে শেয়ারটির আরও দাম আজ আরও কমে যেত পারতো বলে  মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রাখার খবরের প্রভাবে বুধবার এই দর পতন হয়েছে। উল্লেখ, সোমবার আলহাজ টেক্সটাইলের পরিচালনা পরিষদ এক মাসের জন্য কোম্পানির কারখানা লেঅফ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ এই এক মাস কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। চলতি মূলধনের সঙ্কট, বাজারে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া এবং গুদামে উৎপাদিত পণ্য রাখার জায়গা না থাকার কারণে কারখানা ও উৎপাদন বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মূলধনের সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে উৎপাদন বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি আলহাজ টেক্সটাইল অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পেলেও তা দিয়ে চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণ করছে না কোম্পানিটি। এই টাকা ব্যাংকে মেয়াদী আমানত (FDR) হিসেবে রাখা আছে বলে জানা গেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুটি কারণে আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যব্হার করছে না। প্রথমত মূলধনের চেয়েও বড় সঙ্কট উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়া। তাই গুদামে মজুদ পণ্য বিক্রি না করে উৎপাদন চালাতে থাকলে আরও বেশি পরিমাণ চলতি মূলধন আটকে যাবে।

দ্বিতীয়ত তারা যেমন অগ্রণী ব্যাংকের কাছে টাকা পাওনার দাবি করে মামলা করেছে, তেমনই অগ্রণী ব্যাংকও আলহাজ টেক্সটাইলের কাছে টাকা পাবে এমন দাবি করে মামলা করেছে। কোনো কারণে ওই মামলায় রায় কোম্পানির বিপক্ষে গেলে যেন সঙ্কটে পড়তে না হয়, তার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাংকে এফডিআর রাখা হয়েছে।

ডিএসইতে আলহাজ টেক্সটাইলের লেনদেনের তথ্য-পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বুধবার কোম্পানিটির ৪ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ডিএসইতে এদিন শেয়ারটির সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬৮ টাকা, আর সর্বনিম্ন দাম ৬৩ টাকা ৭০ পয়সা।

কোম্পানটি চলতি হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিক তথা ৯ মাসে শেয়ার প্রতি ৪১ পয়সা লোকসান দিয়েছে।

উল্লেখ, অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে চলমান মামলাটিকে ঘিরে অসাধু বিনিয়োগকারীদের একটি চক্র গত কয়েক বছর ধরে আলহাজ টেক্সটাইলের শেয়ারের মূল্য নিয়ে কারসাজি করে আসছে বলে অভিযোগ আছে। প্রতিবার মামলার শুনানির বেশ কিছুদিন আগে তারা কোম্পানিটির শেয়ার কেনেন এবং শুনানির সময় কাছে এলে বাজারে গুজব ছড়িয়ে দেন-ওই শুনানীতে কোম্পানিটির পক্ষে রায় আসবে, কোম্পানি বিপুল পরিমাণ টাকা পাবে।

গত তিন বছর ধরে দেখা গেছে, শুনানীর ঠিক আগে আগে আলহাজ টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম বেড়ে যায় এবং শুনানীর পর তা কমে যায়। এই কারসাজির সঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষেরও সংশ্লিষ্টতা থেকে থাকতে পারে বলে অনেকের আশংকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here