কাটছে না লেনদেনে খরা, দায়ী কে?

0
406

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজার চাঙা করতে বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও লেনদেনে খরা কাটছে না। সপ্তাহের পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ৩০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছে। শেয়ার বাজারের মন্দ পরিস্থিতির জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশিরা ডিএসই’র মাধ্যমে ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৮০ টাকার শেয়ার কিনেছেন। এর বিপরীতে তারা বিক্রি করেছেন ৩১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৮ টাকার শেয়ার। শুধু সেপ্টেম্বরেই বিদেশিরা ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩০৮ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। আগের মাস আগস্টে বিদেশিরা ১৭৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনলেও বিক্রি করেছেন ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার বিক্রি করে, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

তার মতে, দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ না বাড়ানোর কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনছেন না। এ জন্য শেয়ারবাজারে এই মুহূর্তে বড় ও ভালো বিনিয়োগ জরুরি।

ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, ভালো শেয়ার বা বড় শেয়ার নতুন করে এলে সূচক বাড়বে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সূচক দেখেই শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে সূচক বাড়াটা গুরুত্বপুর্ণ। আর সূচক বাড়লে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ে। তখন লোকজন ভালো শেয়ারের পাশাপাশি অন্য শেয়ারও কিনবে।

যদিও এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজার চাঙা করতে বাজারের সব অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজার স্বাভাবিক করতে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর অধীনে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকগুলো যেন শেয়ারবাজারে টাকা ধার দিতে পারে, সে ব্যাপারে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এরপরও বাজারে চাঙাভাব আসেনি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৩৮ দশমিক ৭২ পয়েন্টে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসপিআই ১৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৫ হাজার ২২ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে।

বৃহস্পতিবার ডিএসই’তে ৩২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন বুধবার এই বাজারে ৩৪৬ কোটি ৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল। এই অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় বাজার পরিস্থিতি ভালো হবে এমন কোনও লক্ষণ দেখছেন না ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিদেশিদের শেয়ার কেনা ও বেচার পার্থক্য নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গেছে। বিদেশিরা শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করছেন বেশি। এ অবস্থার উত্তরণ চাইলে দেশের বড় বিনিয়োগ শেয়ার বাজারে আনতে হবে।

জানা গেছে, গত কয়েক সাত মাস ধরে শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরে যাচ্ছে। এই বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশিরা যে পরিমাণ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন তার থেকে ৬৮২ কোটি টাকা বেশি। তথ্য বলছে, আগস্ট মাসে বিদেশিরা যে টাকার শেয়ার কিনেছেন, বিক্রি করেছেন এর চেয়ে ১০৩ কোটি টাকারও বেশি।

এছাড়া, জুলাই মাসে বিদেশিরা শেয়ারবাজার থেকে ৩০৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনলেও তার বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৪৭৪ কোটি টাকার শেয়ার। অর্থাৎ জুলাইয়ে বিদেশিরা শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন ১৬৫ কোটি টাকা বেশি।

জুনে বিদেশিরা ২৯৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনলেও তার বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৩০৫ কোটি টাকা। মে মাসে তারা কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন ৬৫ কোটি টাকা বেশি। এপ্রিলে কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন ১৫৪ কোটি টাকা বেশি। মার্চে কেনার চেয়ে ১২৪ কোটি টাকা বেশি বিক্রি করেছেন বিদেশিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here