শাহীনুর ইসলাম : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) চলতি বছরে ৭টি কোম্পানি এবং দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে। আইপিও পরিসংখ্যান অনুসারে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে আইপিও অনুমোদন পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন জমা পড়েছে প্রায় দেড় ডজন কোম্পানির। রোডশো সম্পন্ন করে আবেদন করা হলেও অনুমোদন না মেলায় পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটছে না। অনেকে বলেছেন, ভালো মানের কোম্পানি না থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দিচ্ছেনা।

কমিশন সম্পর্কে এমন কথা উড়িয়ে দিয়ে দেশের শীর্ষ অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক কোম্পানির সিইও বলেন, তাহলে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেন অফলোড করছে না। এসব কোম্পানির প্রোফাইল অনেক ভালো। তাই আইপিও খরার মৌসুমে সরকার অফলোড প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারতো। তবে অতি আগ্রহের বিষয় নিয়ে অনাকাঙ্খিত আচরণ পুঁজিবাজারে কোনভাবেই কাম্য নয়।

অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে বাজারকে এগিয়ে নিতে নানামুখী সম্ভাবনা এবং আগ্রহের কথা বললেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন নেই।

ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে আইপিওতে আনার তাগিদ প্রকাশ করেন এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব মজুমদার। তিনি বলেন, গত বছরে যে পরিমাণ কোম্পানি আইপিও অনুমোদন পেয়েছে চলতি বছরে তা থেকে অনেক কম হয়েছে। তবে কমিশনে আবেদন করা হলেই যে আইপিও মিলবে বিষয়টি এমন নয়; অনুমোদন না পাওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। তবে ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নিতে তাগিদ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটাতে এবং পুঁজিবাজারে সুস্থ্যতায় আরো আইপিও ছাড়া দরকার।

অনুমোদন কমের কারণ হিসেবে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, অনেক কোম্পানিই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করে। তবে পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করতে পারে না। পরে শর্ত পূরণের সময় দেওয়া হলেও যথাসময়ে তা করে না। এতে আইপিও প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। কিন্তু দোষারোপ করে বলা হয়, কমিশনের কারণেই আইপিওতে বিলম্ব হয়। সব শর্ত পূরণ করে আবেদন এলে আইপিও আটকে রাখার কোনো কারণ নেই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে আইপিও পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে আইপিও পায় ১২ কোম্পানি, ২০১৪ সালে ২০টি, ২০১৫ সালে ১২টি ও ২০১৬ সালে ১১টি কোম্পানি। তবে ২০১৬ সালে অনুমোদন পাওয়া ১১টি কোম্পানির মধ্যে ৯টি তালিকাভুক্ত হয় চলতি বছরে হয় বাকি দুটি কোম্পানি।

২০১৭ সালে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, নাহি অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড, আমরা নেটওয়ার্ক, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, বিবিএস কেবলস ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আইপিও অনুমোদন পেয়েছে।

একই সঙ্গে দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ICB AMCL First Agrani Bank Mutual Fund এবং SEML IBBL Shariah Fund অনুমোদন লাভ করে।

পেছনের খবর : আইপিও প্রক্রিয়ায় ৮টি কোম্পানি

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here