কাগুজে কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে, আগামী নিয়ে সংশয়

0
714

সিনিয়র রিপোর্টার : কাগুজে কোম্পানির সংখ্যা আরো বাড়ছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানির স্বাস্থ্য ভালো দেখালেও তালিকাভুক্তির পরই দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎপাদন কমছে, কোম্পানির পরিচালকদের দ্বন্দ্বে লাটে উঠছে কোম্পানি। এরপরে নানা সংকটে উৎপাদন বন্ধ এবং লভ্যাংশ প্রদান করতে না পারায় বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন বিপদগ্রস্থ।

বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান হচ্ছে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে। মান বাঁচাতে অনেক কোম্পানি নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়ে ক্যাটেগরি টিকিয়ে রাখছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, বিএসইসির উচিত কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কমপক্ষে ৪ বছর পর্যন্ত কোনো পরিচালক তার শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না, এমন নিয়ম করে দেওয়া।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ছয়টি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। বাজারে আসতে না আসতেই কোম্পানিগুলোর অবস্থান হয়েছে জেড ক্যাটেগরিতে।

সবচেয়ে বেশি দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে ২০১৪ সালে। এ বছরে তালিকাবুক্ত ১৭ কোম্পানির মধ্যে চারটি জেড ক্যাটেগরিতে চলে গেছে।  কোম্পানিগুলো হলো- সুহ্নদ ইন্ডাস্ট্রিজ, তুংহাই নিটিং, খুলনা প্রিন্টিং ও এমারাল্ড ওয়েল।

এরআগে ২০১৩ সালে অভিষেক হওয়া সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স জেড ক্যাটেগরিতে শেয়ার লেনদেন করছে। ২০১৫ সালে অনুমোদন পাওয়া সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল লভ্যাংশ দিতে না পারায় এখন জেড ক্যাটেগরিতে।

তবে ২০১৬-১৭ সালের কোনো কোম্পানি জেড ক্যাটেগরিতে যায়নি। তবে লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ অনেক কমেছে। মান বাঁচানোর মতো লভ্যাংশ প্রদান করেছে কয়েকটি কোম্পানি।

মর্ডার্ণ ডাইংয়ের উৎপাদন ব্যহত হলেও কোম্পানির কারখানা ভাড়ার আয় দিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করে। যদিও কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আগামীতে উৎপাদনে ফিরবে না। এমন কোম্পানির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কোম্পানিগুলো যখন বাজারে আসতে চায় তখন ইস্যু ম্যানেজার থেকে শুরু করে অডিটরসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কোম্পানির আর্থিক অবস্থার একটি সুন্দর বিবরণ উপস্থান করে। সেখানে কোম্পানির কোন খারাপ দিক নেই। এজন্য বিএসইসির উচিত, এটা ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here