করের আওতার বাইরে ৫ হাজার ছাপাখানা

0
247

সিনিয়র রিপোর্টার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করের আওতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে গত কয়েক বছর থেকে। আসন্ন বাজেটেও করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। তবুও জনবল সংকট, ভ্যাটে চালান জমাকারীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা না পাওয়াসহ নানা কারণে করের আওতার বাইরে রয়ে যাছে প্রায় ৫ হাজার ছাপাখানা।

এর মধ্যে দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ছাপাখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বই ছাপার পাশাপাশি পোস্টার, ব্যানারসহ নানা ধরনের ছাপার কাজ হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ প্রতিষ্ঠান সরকারকে রাজস্ব দিলেও বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে করের আওতার বাইরে।

এসব প্রতিষ্ঠানের যখন ভ্যালু এডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালানের প্রয়োজন হয় তখন নাম সর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে চালান জমা দেয়। পরবর্তী সময়ে চালানে দেয়া ঠিকানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া যায় না। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

মুদ্রণ শিল্প সমিতি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এমন অনেক ছাপাখানা আছে যারা সরকারকে ঠিকমত রাজস্ব দেয় না। এ ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা মুদ্রণ শিল্প সমিতির সঙ্গে জড়িত না এবং মুদ্রণ শিল্প সমিতিতে আসতেও চায় না। কারণ মুদ্রণ শিল্প সমিতিতে তালিকাভুক্ত হলে ঠিকমতো রাজস্ব দিতে হবে। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা দেখা করে করের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কাস্টমস, এক্সসাইজ এন্ড ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মতিঝিলের মুদ্রণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আমরা ২শ প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় এনেছি। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, মুদ্রণ শিল্পের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ এক সঙ্গে করে। যেহেতু বাঁধাইয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স ফ্রি, তাই এই সুবিধা নিতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। এনবিআরের পক্ষ থেকে অভিযানে গেলে বাঁধাই প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআরের কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করে। আর জনবল সংকটের কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে পারে না এনবিআর।

এ প্রসঙ্গে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা বেশ কয়েকবার এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। মুদ্রণ শিল্প সমিতির সঙ্গে জড়িত না এমন প্রায় ৫ হাজার প্রতিষ্ঠান দেশে রয়েছে। যারা সরকারকে রাজস্ব দেয় না। এসব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় নিয়ে এলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। পাশাপাশি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here