করবান্ধব জনতুষ্টির বাজেট ঘোষণা

0
197

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের মাহেন্দ্রক্ষণে জাতিকে আরো সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই স্বপ্নকে সামনে রেখেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করলেন ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট।

নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ শতাংশ এবং মূল বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের বছরে জনতুষ্টির বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আকারের দিক থেকে এই বাজেট যেমন বিশাল, তেমনি এর বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ কঠিন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এবার মূল বাজেটের যে আকার ধরেছেন অর্থমন্ত্রী, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপির ১৮ শতাংশ। প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা; যার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি।

বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংসদ অধিবেশন কক্ষে ঢুকছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট দেয়ার রেকর্ড স্পর্শ করা মুহিত বিশাল এই ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করেন মুহিত।

অতীতের ধারাবাহিকতায় এ বাজেটেও থাকছে বড় অংকের ঘাটতি। অর্থমন্ত্রী সংসদের সামনে যে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এই পরিমাণ মোট জিডিপির ৫ শতাংশের মতো। এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীর সহায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ। তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ধার করে ওই ঘাটতি মেটানো যাবে।

বিনিয়োগকারীদের টানতে নতুন বছরের বাজেটে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আরোপিত কর বিদ্যমান ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। আর অতালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আরোপিত কর বিদ্যমান ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব ধরনের কোম্পানির ক্ষেত্রে আরোপিত করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের একটানা দশম ও বর্তমান সরকারের সর্বশেষ এই বাজেট উপস্থাপনা শুরু হয় দেশের অর্থনীতিতে গত নয় বছরের সাফল্যের একটি মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। এ সময় বর্তমান সরকারের সামাজিক, আর্থিক, বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ সফলতা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। বাজেট বক্তৃতার প্রথম দিকে অর্থমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিলেও স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পাঁচ মিনিট পরেই বসে বাজেট বক্তৃতা পেশ করেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের কথা বলতে গিয়ে জানান, এ দেশের অপার সম্ভাবনা আমাকে বিস্মিত ও স্বপ্নচারী করে। তিনি বলেন, যে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ১৬ কোটি স্বতঃস্ফূর্ত জনগণ, সে দেশের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত বা প্রতিরোধ করার সাধ্য কারো নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন প্রয়োজন কেবল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব কিছুর সুসমন্বয় এবং সঠিক ও সুযোগ্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। সমৃদ্ধ আগামীর পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রার ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়নে আমি বয়সের কারণেই হয়তো তেমন ভূমিকা রাখতে পারব না; তবে কাজ যে শুরু হয়েছে তাতে আমি খুবই তৃপ্ত ও নিশ্চিত। অবশ্যই সে উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার চেষ্টা করব।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৯ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ পরিশোধে ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি, পিপিপি ভর্তুকি ও দায় মেটাতে ২২ হাজার ২০১ কোটি এবং নিট ঋণ দান ও অন্যান্যে ২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ব্যয়ের খাত : নতুন বাজেটেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সার্বিকভাবে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এই ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করবেন অর্থমন্ত্রী।

প্রতি বছরই বাজেটের আকার বাড়লেও বাজেট বাস্তবায়নের হার কমে যাচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯৭ শতাংশ থাকলেও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ৭৪ শতাংশে নেমে আসছে। গত ৮ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার কমেছে ২৩ শতাংশ। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকেও প্রতিবার বাজেট ঘোষণার পর অর্থনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই আগামী অর্থবছরে নির্বাচনী ডামাডোলে বাজেট বাস্তবায়ন যাতে পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য অর্থমন্ত্রী এবার বিশেষ দৃষ্টি রেখেছেন।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি শুধু অর্থনীতিবিদই নন, দেশবাসীকেও আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগামীতে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে থাকব। বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আর সবার মতো আমাদেরও ভাবনা আছে। সেভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি, উন্নতিও হচ্ছে। এই বছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের হার আবার ৯২ শতাংশ হবে বলে আশা করছি।

সামনে নির্বাচন। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেটে গ্রামীণ উন্নয়নের দিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তেমনি জনকল্যাণকেও অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি বাড়ানো হয়েছে আওতাধীন সুবিধাভোগীদের ভাতার পরিমাণ। অসচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে অথবা নাতি-নাতনিদের সহায়তা দেয়ার একটি ব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তৈরি করছে। এজন্য আগামী বাজেটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ করা হচ্ছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ১৪ লাখ করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ও উৎসব ভাতার পাশাপাশি বার্ষিক দুই হাজার টাকা হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু করা হচ্ছে। এ ছাড়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিজয় দিবস উপলক্ষে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে বিশেষ সম্মানী ভাতা চালু করা হচ্ছে। বিদেশি কায়দায় দেশের সব মানুষের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাজেটে। সবমিলিয়ে ভোটের বছরে ভোটারদের তুষ্ট করার একটা প্রবণতা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেটে দেখা যাচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির খাতওয়ারি বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বা ২৫ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বা ২২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ শতাংশ বা ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকার বরাদ্দ।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির খাতওয়ারি বরাদ্দকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই ভাগের সর্বোচ্চ বরাদ্দ মানবসম্পদ বিভাগে, যা উন্নয়ন বাজেটের ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বা ৪৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো খাত। এই খাতের বরাদ্দ ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বা ৩৭ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২৪ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

ঘাটতি আদায়ের খাত : বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন মুহিত। গতবারের মতো এবারো সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, এক লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশের মতো।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৮২ হাজার ৭১৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ৭১৯ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৪৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৩৬ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীর সহায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ। বিদেশ থেকে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ধার করে ওই ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা হাজির করেছেন তিনি। মুহিত আশা করছেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি।

সংশোধিত বাজেট : জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা কমিয়ে করে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা (জিডিপির ১১ দশমিক ৬ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়। রাজস্বের ক্ষেত্রে আয়-মুনাফার ওপর কর ও মূল্য সংযোজন কর থেকে অর্জন আশানুরূপ না হওয়ায় এই সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সর্বমোট সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ ব্যয় ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা কমিয়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা (জিডিপির ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা থেকে কিছুটা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে (জিডিপির ৬ দশমিক ৬ শতাংশ)। অন্যদিকে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয়ের প্রাক্কলন কমিয়ে করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা (জিডিপির ৫ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১ কোটি টাকা (জিডিপির ৫ শতাংশ)।

মূল বাজেটে ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক সূত্র থেকে অর্থায়নের প্রাক্কলন ছিল ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ২৪ কোটি টাকায় (জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ)। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র ধেকে অর্থায়নের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here