করপোরেট কর ও উৎসে কর প্রত্যাহার দাবি বিজিএমইএর

0
85

সিনিয়র রিপোর্টার : করপোরেট কর কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির ওপর উৎসে কর আগামী ৩ বছরের জন্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ কারখানার ক্ষেত্রে ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৫ আর গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করপোরেট করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা এই হার কমিয়ে যথাক্রমে ১০ ও ১২ শতাংশ করার অনুরোধ করছি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে শনিবার বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অনুরোধ জানান। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি এস এম মান্নানসহ অন্য পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সংগতি রেখে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে, না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের করপোরেট কর কমানো হয়েছে কিন্তু যে খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হচ্ছে সেই পোশাক খাতের করপোরেট কর বাড়ানো হয়েছে। আমরা মনে করি, করপোরেট কর বাড়ানোর ফলে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, পোশাক শিল্পে করপোরেট করহার ১০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন।

উৎসে করের বিষয়ে তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে আগামী তিন বছরের জন্য উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হোক। রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে উৎসে কর কাটা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একই রপ্তানির এলসির বিপরীতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক যেমন- সুতা, কাপড় ও এক্সেসরিজ সরবরাহকারীদের থেকেও একই হারে উৎসে কর কর্তন করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে শনিবার বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা -স্টক বাংলাদেশ।

প্রত্যেক বছর বাজেট ঘোষণার সময় পোশাক খাতের কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে আমরা পোশাক শিল্প মালিকেরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে দেন দরবার করে সেসব কমিয়ে নেয়। প্রতি বছরই বাজেট ঘোষণার সময় পোশাক খাতের কর বৃদ্ধি করা হয়। পরে পোশাক শিল্প মালিকেরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে দেন-দরবার করে সেসব কমিয়ে নেন। কেন এমন টম এন্ড জেরি খেলা হচ্ছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, সবাই পোশাক খাত ভালোবাসেন, তাই টম এন্ড জেরি খেলেন।

ভ্যাটের বিষয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি সংশ্লিষ্ট স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফসহ রিটার্ন দাখিল করা থেকে অব্যাহতি প্রদান, বিগত ৫/৬ বছরের যে ভ্যাট দাবি করা হচ্ছে তা মওকুফ; গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর প্রদত্ত মূসক প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে জটিলতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১০০ ভাগ মূসক অব্যাহতি দেয়ার কথা পোশাক মালিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। বাজেটে সে বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা নেই।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব অভিহিত করে তিনি বলেন, এই বাজেট সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব। এই বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে। নতুন এ বাজেটে পোশাক শিল্পের জন্য সুখবরও নেই আবার খারাপ খবরও নেই। তবে বাজেট প্রস্তাবনায় পোশাক শিল্পের করপোরেট করহার ও সবুজ শিল্পের করহার বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা আশা করছি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here