কমেছে প্লান্টের উৎপাদন সক্ষমতা

0
389

স্টাফ রিপোর্টার : গ্লাসশিটের বাজারে একসময় একক আধিপত্য থাকলেও ধীরে বাজার অংশীদারিত্ব হারাচ্ছে উসমানিয়া গ্লাসশিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। কারখানার মেশিনারিজ পুরনো হয়ে যাওয়ায় একদিকে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিযোগীদের সঙ্গে পেরে উঠছে না সরকারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি।

সর্বশেষ বছরেও কোম্পানির দুটি ফার্নেসে যথাক্রমে ৩৪ ও ৫৯ দিন উত্পাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিক্রি ক্রমেই কমছে। গত পাঁচ বছরে পণ্য বিক্রি ৪৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির লোকসানও বাড়ছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, উসমানিয়া গ্লাসশিটের কারখানার বয়স ৫৩ বছর পেরিয়ে গেছে। একই মেশিনে দীর্ঘদিন ধরে উত্পাদন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ধীরে ধীরে প্লান্টের সক্ষমতা কমেছে। পুরোপুরি প্রতিস্থাপন না করে সাময়িক সংস্কার করায় তা পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে, তবে সক্ষমতা বাড়ছে না।

অন্যদিকে উচ্চসক্ষমতা ও দক্ষতার সুবাদে ব্যক্তিখাতের নাসির গ্লাস, পিএইচ ও এমইবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের দামও তুলনামূলক কম। ক্রমেই বাজার অংশীদারিত্ব হারাচ্ছে উসমানিয়া গ্লাসশিট।

উসমানিয়া গ্লাসশিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ অর্থবছরে সক্ষমতার ৭১ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে কোম্পানিটি। উত্পাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয় ফার্নেস মেরামত করা হয়েছে। প্রথম ফার্নেসের ড্রয়িং ব্রিজ পরিবর্তন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ফার্নেসের উভয় দেয়াল, থ্রোট-বোক, ফ্লু-জোন, আর্চ ও পেভিং টাইলস পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে দুটি ফার্নেসে ১০০ দিনের মতো উত্পাদন বন্ধ ছিল। ফলে আগের বছরের তুলনায় উত্পাদন কমে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে লোকসানও।

উসমানিয়া গ্লাসশিটের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাদ দিয়ে ২০১২-১৩ হিসাব বছরে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে কোম্পানিটি। চার বছরের ব্যধানে তা প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে সর্বশেষ হিসাব বছরে ১৮ কোটি ৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এর আগে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে ৩১ কোটি ১৪ লাখ, পরের বছর ১৯ কোটি ৪১ লাখ ও ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে উসমানিয়া গ্লাসশিট।

এদিকে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে প্রথমবারের মতো পরিচালন লোকসানে পড়ে কোম্পানিটি। লোকসানের সে চাকা ঘুরছেই। গেল বছর উত্পাদন পর্যায়েই তাদের (গ্রস) লোকসান হয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এফডিআর সুদহার কমে যাওয়ায় ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে উসমানিয়া গ্লাসশিটের নিট মুনাফায়। ২০১২-১৩ হিসাব বছরে কর-পরবর্তী ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা মুনাফা ছিল কোম্পানিটির। সর্বশেষ হিসাব বছরে মুনাফার পরিবর্তে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের বছর লোকসান ছিল ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সর্বশেষ হিসাব বছরে এফডিআরের সুদ বাবদ কোম্পানিটির আয় এসেছে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যেখানে ২০১২-১৩ হিসাব বছরে এফডিআর থেকে আয় হয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা, যেখানে ২০১২-১৩ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৮০ পয়সা।

লোকসান সত্ত্বেও ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে উসমানিয়া গ্লাস। আগের বছরগুলোতেও লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল কোম্পানিটি।

অবশ্য গত বছর সম্পন্ন করা সংস্কারের কিছু সুফল পাচ্ছে কোম্পানিটি। লোকসান কাটিয়ে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় ফিরেছে উসমানিয়া গ্লাসশিট। এ সময় বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সক্ষম হয় তারা। অবশ্য প্রথমার্ধের হিসাবে লোকসানেই রয়েছে তারা।

হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৬৪ পয়সা। তবে প্রথম প্রান্তিকে লোকসানের কারণে প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১ টাকা ৬৫ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি, যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৩ টাকা ১৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৭ টাকা ৪৩ পয়সায়।

১৯৮৭ সালে শেয়ারবাজারে আসা রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, বাংলাদেশ সরকার ৫১, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১১ দশমিক ৮০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here