কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ, মুনাফায় এবি ব্যাংক

0
504

সিনিয়র রিপোর্টার : বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছিল প্রথম প্রজন্মের এবি ব্যাংক। দুই বছর পরে সেই মন্দা ঋণের পরিমাণ কমে আসায় ব্যাংকটি মুনাফায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে বিস্ময়করভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। কঠোর তদারকিতে আদায় বাড়াতে কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। পাশাপাশি আমানতও বেড়েছে। ফলে ঋণ বিতরণে সক্ষমতার পাশাপাশি ব্যাংকটির আয়ও বেড়েছে। দুই বছর পর ব্যাংকটি প্রথম মুনাফায় ফিরে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

আর্থিক বাজারের মতো পুঁজিবাজারেও তলানিতে নেমে যাওয়া ব্যাংকটি এখন জেড ক্যাটাগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। এ অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল। গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর যে চ্যালেঞ্জ তিনি নিয়েছিলেন, তাতে তিনি সফল হতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে তারিক আফজাল বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই খেলাপি ঋণ আদায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। সবার আগে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করি। কঠোরভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করি। এমনকি অনেক প্রভাবশালী ঋণখেলাপির সম্পদ নিলামে তুলতে বাধ্য হই। এতে করে খেলাপি আদায়ে সফলতা আসে। পাল্টাতে থাকে ব্যাংকটির আর্থিক সূচকের চেহারা। এর সঙ্গে অন্যান্য সূচকেরও উন্নতি হতে থাকে।

তারিক আফজাল বলেন, এক বছরে ব্যাংকের এ ধরনের সফলতা অর্জন খুবই কঠিন। কারণ, লোকসানে থাকায় দুই বছর লভ্যাংশ দিতে পারিনি। ফলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যায়। এবার লোকসান কাটিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরির পথে আছি। লভ্যাংশ বিতরণ হলেই ক্যটাগরির উন্নতি হবে। ব্যাংকের সফলতার পেছনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দক্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ঢেলে সাজানোর ফলে কাজের গতি বেড়েছে। পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমী) আলীকে চেয়ারম্যান করা হয়। এতে কাজে গতি আসে। ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

দেখা গেছে, ২০১৮ সালের শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশে।

গত বছর ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় শত ভাগেরও বেশি। এরপরে ২০১৯ সালে লক্ষণীয় ব্যবসায়িক উন্নতি করেছে।

তারিক আফজাল বলেন, ২০১৯ সালে সাময়িক বিরূপ পরিস্থিতিতেও আমানতকারীরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেছেন। যে কারণে ২০১৯ শেষে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।

আমানত বাড়ায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ঋণ আমানত হার যথাযথভাবে পরিপালন করতে পেরেছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও অন্য আর্থিক সূচকগুলোতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানদ- বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের হিসাববিবরণী পর্যালোচনায় নিয়ে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, যা ব্যাংকের মূলধন ভিত্তিকে মজবুত করতে সহায়তা করবে।

প্রসঙ্গত, অর্থ পাচার, ঋণ অনিয়ম, পর্ষদে অস্থিরতাসহ নানা কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এবি ব্যাংকের প্রায় সব সূচক নিমূখী ছিল। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছিল ব্যাংকটি। একের পর এক লোকসানে উল্লিখিত দুই বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দিতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here