কমিশন বাণিজ্য জটিলতায় পিছিয়ে পড়ছে বিমা খাত

0
226

স্টাফ রিপোর্টার : বিমা খাতের বিকাশে কমিশন বাণিজ্য বড় সমস্যা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সমস্যার সমাধান করে গ্রাহকদের কাছে বিমার নতুন নতুন পণ্য তুলে ধরতে পারলে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

‘বাংলাদেশের বিমা শিল্পের বর্তমান বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় মঙ্গলবার এমন কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইএয়ের চেয়ারম্যান ও সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে, সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, জীবন বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শেলীনা আফরোজা, আইডিআরএর সদস্য গকুল চাঁদ দাস ও বোরহান উদ্দিন, অ্যাকচুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন, বিআইএর প্রথম সহসভাপতি রুবিনা হামিদ, সহসভাপতি একেএম মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি জালালুল আজিম ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি ডটকম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বিমা খাতের কয়েকটি সমস্যা বিশাল সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে অন্যতম বিমা খাতে গ্রাহকদের অনাস্থা ও কমিশন বাণিজ্য। ফলে তৈরি হচ্ছে ইমেজ সংকট। এগুলো দূর করার উদ্যোগ নিয়েছি। সবাইকে মিলে অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ২০১৮ সালেই এই সমস্যার সমাধান করতে চাই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো একটি আইনের খসড়া করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরে অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেগুলো আইডিআরএতে পাঠানোর পর স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অনেক সময় নষ্ট হয়। এতে সঠিক সময়ে সঠিক আইন করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

সবকিছু মিলিয়ে বিমা খাতে যে সম্ভাবনা রয়েছে তার সুফল পেতে হলে গতানুগতিক পণ্যের বাইরে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে।

আইডিআরএ সদস্য গোকুল চাঁদ দাস বলেন, কমিশন নিয়ে সমস্যা সমাধান না করলে নতুন করে বাজার সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। এটা লাইফ আর নন-লাইফ হোক। এই বছর এজেন্টদের কমিশন দেয়ার অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিমা নীতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিমা নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে নতুন করে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি বেশ কিছু আইনের পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এসবিসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলাম বলেন, বিমা খাতের আস্থার অভাব রয়েছে। তার কারণ একই ব্যক্তির কাছে পলিসির জন্য সব কোম্পানির লোকেরাই যায়। কিন্তু কোনো নতুন প্রোডাক্ট ডিজাইনের কোম্পানিগুলো গুরুত্ব দেয় না। কোম্পানিগুলোকে ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট, ই-প্রোডাক্টসহ নতুন ও আকর্ষণীয় প্রোডাক্ট বাজারে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি এমডি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, বিমা কোম্পানির এমডি নিয়োগে সর্বনিম্ন বয়স ৪০ সীমা রয়েছে। এটা আরো কমানোর পাশাপাশি বিমা সম্পর্কে প্রচারণা বাড়ানো দরকার। মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সগুলোকে দেখার কেউ নেই। বিমা কোম্পানিতে নিয়মিত অডিট হচ্ছে না। আইডিআরএকে অন্তত ২ বছর পরপর অডিট করতে হবে।

সাধারণ বিমা নিয়ে সেমিনারে একেএম মনিরুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বেশি বিমা কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফলে বিমা খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে দক্ষ বিমা বিক্রির কর্মী নেই। দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে বিমা সম্পর্কে পড়াশোনার সুযোগ নেই।

রূপালী ইন্স্যুন্সের এমডি পি কে রায় বলেন, বিমা নীতিতে যে পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here