কমছে আর্থিক খাতের প্রাধান্য

0
949

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারের লেনদেনে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের প্রাধান্য কমছে। তিন সপ্তাহ আগেও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনের বেশিরভাগজুড়ে থাকত ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক এবং বীমা খাতের শেয়ার; তা এখন ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বস্ত্র খাতের দখলে।

যদিও আগের দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার লংকাবাংলা ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের লেনদেন বৃদ্ধির ওপর ভর করে প্রায় ৫৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন বেড়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে। এ ছাড়া সিটি, আল-আরাফাহ্ ও ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন বৃদ্ধির কারণে ব্যাংক খাতেরও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, লভ্যাংশ প্রদানকে কেন্দ্র করে গত নভেম্বর থেকে আর্থিক খাতের শেয়ার কিনেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে লভ্যাংশ ঘোষণার আগেই শেয়ারগুলোর দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। নূ্যনতম ৫০ শতাংশ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে এসব খাতের শেয়ারদর। এ অবস্থায় অনেকে শেয়ার বিক্রি করে অন্য খাতের শেয়ার নিয়ে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন। তার প্রভাব লেনদেন ও শেয়ারদরে পড়ছে।

বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, লভ্যাংশ ঘোষণার আগে আরও অন্তত একবার বিভিন্ন আর্থিক খাতের কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সে ক্ষেত্রে কোন কোম্পানি কতটা লভ্যাংশ ঘোষণা করতে যাচ্ছে, এমন গুঞ্জন বা অনুমান শেয়ারের লেনদেন ও দরবৃদ্ধিতে সর্বাধিক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন।

মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক এবং বীমা খাতের ১০০ কোম্পানির প্রায় ৩১৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ। বিপরীতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতের ১২৪ কোম্পানির প্রায় ৬২৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোটের ৫৩ শতাংশেরও বেশি।

অবশ্য একদিন আগে গত সোমবার তিন আর্থিক খাতে মোটের ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। বিপরীতে উল্লেখিত চার খাতের শেয়ার লেনদেন হয় ৫৮ শতাংশ। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার ও সিএসইতে সাড়ে ৬৯ কোটি টাকার। উভয় বাজারে ১৪০ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। গতকালের লেনদেনে এককভাবে ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির ১৪৬ কোটি টাকার, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের ২৩ কোম্পানির ১৫২ কোটি টাকার এবং বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির সোয়া ২০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়।

একক খাত হিসেবে মঙ্গলবার সর্বাধিক ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৮ কোম্পানির। এ ছাড়া প্রকৌশল খাতের ৩৩ কোম্পানির ১৬৫ কোটি টাকার, বস্ত্র খাতের ৪৫ কোম্পানির ১৩০ কোটি টাকার এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৮ কোম্পানির প্রায় ১৩২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অথচ তিন সপ্তাহ আগে খাতওয়ারি লেনদেনে ব্যাংক খাত ছিল সবার ওপরে। গত জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে এ খাতের লেনদেন ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ২৩ শতাংশ। ওই সময় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন ছিল ১০-১২ শতাংশের মধ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here