কনফিডেন্স কনসোর্টিয়ামের আরো দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন

0
649

সিনিয়র রিপোর্টার : রংপুর ও বগুড়ায় দুটি ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরুর জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) অনুমতি পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম।

কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড তাদের শেয়ারহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছে, ১৫ মে ইস্যু করা চিঠিতে বিপিডিবি তাদের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে প্রস্তাবিত এইচএফও ফায়ার্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির ব্যাপারে লেটার অব ইনটেন্ট বা কার্যাদেশ দেয়। এখন বিপিডিবির সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে আসতে হবে তাদের।

কোম্পানিটি আরো জানিয়েছে, কনসোর্টিয়ামের ৫১ শতাংশ শেয়ার তাদের হাতে। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স স্টিল লিমিটেডের মালিকানায়।

জানা গেছে, ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন উভয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) ব্যবহূত হবে। রংপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বিপিডিবি ৮ টাকা ২০ পয়সা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুত্ কিনবে। বগুড়ার প্লান্টের বিদ্যুত্ বিক্রি হবে ৮ টাকা ২৪ পয়সা দরে।

গ্রুপের নিজস্ব কনসোর্টিয়ামের বাইরেও সম্প্রতি যৌথ উদ্যোগে অনুমোদন পাওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব শেয়ার অংশীদারদের হাতে ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। এর মাধ্যমে তাদের মুনাফা ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা বাড়বে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শেয়ারহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কনফিডেন্স সিমেন্ট জানায়, ১১ মেগাওয়াটের এনার্জিপ্যাক কনফিডেন্স পাওয়ার ভেঞ্চার লিমিটেড (ইভিপিসিএল) এবং ১০৮ মেগাওয়াটের ইভিপিসিএল চিটাগংয়ে নিজেদের সব শেয়ার তারা এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন্স লিমিটেড ও তাদের মনোনীতদের কাছে বিক্রি করা হবে। এর মাধ্যমে কনফিডেন্স সিমেন্টের আয় হবে ৮০ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৫ টাকা, যেখানে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৩ টাকা। কোম্পানির মুনাফা হবে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯২ টাকা।

জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় গেলবার ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেয়ার পর গেল বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য আরো ১০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। আগের দেড় বছরে তা ছিল ৬ টাকা ৩২ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৭৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ৭ টাকা ৭১ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। ৩১ মার্চ এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭৭ টাকা ৯৫ পয়সা।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ১৩২ টাকা ৩০ পয়সায় কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৭৯ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৫১ টাকা।

১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২২১ কোটি ৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫২০টি; যার মধ্যে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

এর আগে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল দেশের সাত জেলায় নতুন সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১৫, বগুড়ায় ১১৩, চাঁদপুরে ১১৫, নারায়ণগঞ্জে ১০৪, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ১১৩ ও ফেনীতে ১১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল নাগাদ উত্পাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য গত বছরের শেষ দিকে দরপত্র আহ্বান করে বিপিডিবি। ২০১৫ সালে ডলারের বিপরীতে ৭৮ টাকা ৬৬ পয়সা বিনিময় হার ধরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ১০ দশমিক ৪৩ সেন্ট ধার্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাব করে দর প্রস্তাব করে দেশী বেশ কয়েকটি কোম্পানি। ছিল বিদেশী কিছু কোম্পানিও।

এসব কোম্পানি থেকে বাছাই করে গত নভেম্বরে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরেকটি কেন্দ্রের জন্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর বাকি তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারীদের বাছাই করা হয়। পুরো তালিকাটিই বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠায় বিপিডিবি। বিদ্যুৎ বিভাগ ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্তভাবে মনোনীত কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে স্থাপনার কাজ শুরুর কথা জানাচ্ছে বিপিডিবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here