ওয়েস্টার্ন মেরিন রাইট শেয়ারে ৫০০ কোটি টাকা তুলবে

0
2807

স্টাফ রিপোর্টার : বিশেষ ধরনের জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে রাইট শেয়ার ইস্যু করারও পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে সম্প্রতি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ডে স্পেশাল টাইপ ভেসেল নির্মাণের জন্য সক্ষমতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিনের পরিচালনা পর্ষদ। এজন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রকল্পে অর্থসংস্থান করা হবে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কোম্পানি প্রতি বছর ৩০ হাজার টন সক্ষমতার স্পেশাল টাইপ ভেসেল নির্মাণ করতে পারবে। বর্তমানে বছরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টন সক্ষমতার জাহান নির্মাণ করতে পারে তারা। নতুন প্রকল্প ওয়েস্টার্ন মেরিনের বার্ষিক রাজস্ব আয় ১৫০ কোটি টাকা বাড়াবে, যার সুবাদে মুনাফা বাড়তে পারে ১১ শতাংশ।

পর্ষদ সভা শেষে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিটি আরো জানায়, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন বর্তমান ৩০০ কোটি থেকে ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে চায় এর পর্ষদ। এজন্য পরবর্তী বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কোম্পানির।

পাশাপাশি বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে ১ দশমিক ২৫টি রাইট শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে কোম্পানির পর্ষদ। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের একেকটি শেয়ারে ১০ টাকা হারে প্রিমিয়াম নিতে চায় কোম্পানি। রাইটের অর্থে সক্ষমতা সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি কোম্পানির পুরনো কিছু ঋণও পরিশোধ করা হবে। আসন্ন ষষ্ঠ ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পর এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও অনুমোদন প্রয়োজন হবে তাদের।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ৩ শতাংশ নগদ ও ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিনের পর্ষদ। বছর শেষে শেয়ারপ্রতি কোম্পানির মুনাফা (ইপিএস) দাঁড়ায় ২ টাকা ১৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ১ পয়সা।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ৩০ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের বোট ক্লাবে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে ওয়েস্টার্ন মেরিন। এর আধা ঘণ্টা আগে ইজিএমে অনুমোদিত মূলধন ও রাইট ইস্যুর পরিকল্পনা বিবেচনা করবেন শেয়ারহোল্ডাররা। উভয় সভার রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ ডিসেম্বর।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬৬ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা ছিল ৫৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা।

কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জাহাজ শিল্প। আন্তর্জাতিক কার্যাদেশ বাড়তে থাকায় ওয়েস্টার্ন মেরিনের টার্নওভারও বাড়ছে। এজন্যই সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিলম্বিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আয়োজনে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর চলতি বছর একসঙ্গে দুই হিসাব বছরের লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। প্রকাশ করা হয় বার্ষিক ফলাফলও। ২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ এবং পরবর্তী ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ৪১ টাকা ২০ পয়সায় ওয়েস্টার্ন মেরিন শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এর দর ২৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১৪৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ৪৫ এবং বাকি ৫০ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর সর্বশেষ বার্ষিক ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৬ দশমিক ৫৩, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতেও তা ১৫ দশমিক ২২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here