ওয়েস্টার্ন মেরিন এজিএম করতে পারবে

0
1659

আদালত প্রতিবেদক : নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বিলম্বিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনে উচ্চ আদালতের অনুমোদন চেয়েছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। কয়েক দফা শুনানির পর গত মঙ্গলবার কোম্পানিটিকে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের এজিএম করার অনুমতি দেন আদালত। এজন্য তাদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জ মারফত কোম্পানি জানায়, উচ্চ আদালত তাদের ৩০ জুনের মধ্যে দুই বছরের এজিএম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এজিএমের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের কোম্পানি সচিব শাহাদাত হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ও নির্দেশনাক্রমে আমরা নির্ধারিত (৩০ নভেম্বর) সময়ের মধ্যে এজিএম সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে শুরু করে এজিএমের যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে।

জানা গেছে, ওয়েস্টার্ন মেরিনের সর্বশেষ এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালের নভেম্বরে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর পরই ২০১৩-১৪ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়। সে হিসাব বছরে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৩২ পয়সা।

তবে পরবর্তী (২০১৪-১৫) হিসাব বছরে যথাসময়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে না পারায় লভ্যাংশ ও এজিএমের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কোম্পানিটি। একই কারণে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের এজিএমও আটকে যায়। এর পর কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ধারা ৮১ ও ৮৫ এর (৩) অনুসারে, বিলম্বিত এজিএমের অনুমতি চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে ওয়েস্টার্ন মেরিন, মঙ্গলবার যার চূড়ান্ত রায় আসে।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির একটি এজিএম অনুষ্ঠানের পর ১৫ মাসের মধ্যে পরবর্তী এজিএম করতে হবে। তবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) সম্মতিক্রমে তা ৯০ দিন অথবা যে পঞ্জিকা বছরের জন্য সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সে বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, এই দুই সময়ের মধ্যে যেটি আগে হয়, সে মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে। বর্ধিত এ সময়ের মধ্যেও এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে কোম্পানি উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এজিএম আহ্বান ও পরিচালনা করতে পারবে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবসায় মন্দাভাবের কারণে ২০১৪ সালের পর জাহাজ নির্মাণ ব্যবসায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় ওয়েস্টার্ন মেরিন। ব্যাংকের কাছে কোম্পানির দেনা অনেক বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানির আর্থিক চাপ অনেক বেড়ে যায়।

এদিকে ২০১৪-১৫ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের পর কোম্পানিটির কোনো অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফলও প্রকাশিত হচ্ছে না। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৪-মার্চ ২০১৫) ওয়েস্টার্ন মেরিনের ইপিএস হয় ৬৯ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে (বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর) যা ছিল ২ টাকা ১ পয়সা। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা।

উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ে এজিএম সম্পন্ন না করায় ২০১৬ সালের শুরুতে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডকে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায় চাপ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া এবং ক্যাটাগরি অবনমনের কারণে স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের চাহিদায় ভাটা পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here