ওয়ালটন কী কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে

0
6105
বিএসইসির নির্দেশনাপত্র

রাহেল আহমেদ শানু : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার আগে কোম্পানির শেয়ারের প্রান্তসীমা নির্ধারণ করা হয়। শেয়ারের প্রান্তসীমা নির্ধারণে নিলাম বা বিডিংয়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর অতিমূল্যায়িত করে সেই কোম্পানির ঘনিষ্ট কিছু কোম্পানির প্রতিনিধি।

অতীতে অনেক কোম্পানির শেয়ারের প্রান্তসীমা নির্ধারণে অতিমূল্যায়নের অভিযোগ ছিল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সে সময়ে বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও এখন বেশ নড়েচড়ে বসেছে। আঙ্গুল নির্দেশ করেছে বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বুধবার জানায়, বিডিংয়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী কমিশনের আইন অনুযায়ী বিডিং না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসইসির ৭৪৫তম সভায় বুধবার, ২১ অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। কমিশন থেকে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডকে সেই দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ওয়ালটনের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিডিংয়ের ক্ষেত্রে কি ঘটেছিল -তা জানতে চায় কমিশন। নিলামে কোন উপযুক্ত বিনিয়োগকারী কমিশনের আইন মোতাবেক বিডিং করেছে কিনা তা খুঁজতে যাচ্ছে। পেছনের গল্পের ইতিহাস খুঁজতে যারা অতিমূল্যায়িত করে বা নীতিমালা ভেঙে বেশি দামে নিলামে অংশ নিয়েছে- সেই সব প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘ব্যাখ্যা তলব করা হবে’।

বুধবার ডিএসইতে শেয়ার লেনদেনের চিত্র

তাহলে কি অতিমূল্যায়িত হওয়া কোম্পানি ওয়ালটন এবার ফেঁসে যাচ্ছে- এখন প্রশ্ন এখন অনেকের। অতিমূল্যায়ন বা কারসাজি করে যেসব প্রতিষ্ঠান কি শাস্তি পেতে পারে? নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে সেই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিএসইসি জানায়।

তবে অতিমূল্যায়নে ইস্যুতে সেই সব প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন কী শাস্তির আওতায় আসছে। কি শাস্তি হবে- অর্থদণ্ড না অন্যকিছু। এমন অনেক প্রশ্ন বুধবার বিকালে অনেক বিনিয়োগকারী করেন। তবে তারা শুধু অর্থদণ্ডের শাস্তিকে মানতে চান না।

একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এই কমিশনের কাছে ‘এক ব্যক্তি একটি আইপিও আবেদন’ নীতি করা দাবি জানান। তারা বলেন, এক ব্যক্তির একাধিক বিও হিসাব নয়, এক ব্যক্তির ভিন্ন নামে একধিক আইপিও আবেদন করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে শান্তির আওতায় আনার দাবি করেন তারা।

এদিকে গত ৫ অক্টোবর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নূন্যতম শেয়ার ছাড়া এবং অতিমূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, ওয়ালটন এত কম শেয়ার ছেড়ে কীভাবে বাজারে আসার অনুমোদন পেল। ওয়ালটনের মাত্র ১ শতাংশ শেয়ার বাজারে, বাকি ৯৯ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে। যে কারণে ওয়ালটন হঠাৎ করে পুঁজিবাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার মূলধনের কোম্পানি। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে কিনা আমি জানি না, কিন্তু এটা একটা ভুল বার্তা দিচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের দেশীয় কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা তুলেছে। নিলামে অংশগ্রহণকারীরা ওয়ালটনের শেয়ার পান ৩১৫ টাকায় আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ২৫২ টাকায়। ২৩ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরু হওয়া সেই শেয়ারপ্রতি মূল্য এখন আকাশচুম্বি।

সালমান এফ রহমানের প্রশ্নের উত্তরে সেদিন বিএসইসির অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমি যোগদান করার আগেই ওয়ালটনের বিডিংসহ সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের যতটুকু করণীয় ছিল ততটুকু আমরা করতে পেরেছি। আমরা শুধু ২০ শতাংশ কম দামে এই শেয়ার বিনিয়োগকারীদের দিয়েছি।

যদিও ছোট-খাট ভুলের কথা বলেন তিনি। এখন হয়ত সেই ভুল সংশোধনের দিকে হাঁটছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ডিএসইতে এক মাসের শেয়ারপ্রতি দরের চিত্রটি বুধবার নেয়া

ওয়ালটন ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ আছে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here