ওয়ান ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নে শঙ্কা

0
210

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার থেকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্ক কার্যকর হবে। সব ঠিকই ছিল কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এই সুদহার বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেশি সুদে আমানত নিয়ে কম সুদে ঋণ দিয়ে বেকায়দায় রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (এসএমই) ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলো। তারা ব্যয় সঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করেও আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে পারছেন না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বুধবার থেকেই সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হবে ঋণের সুদহার। ব্যাংকগুলো এজন্য প্রস্তুতিও নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক।

ব্যাংকাররা জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণমূলক সুদহার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারির পর থেকে ব্যাংকগুলো নড়েচড়ে বসে। অধিকাংশ ব্যাংক এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে শাখাপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে। তবে করোনার কারণে অনেক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিষয়টি বাস্তবায়নে খুব বেশি আগ্রহী নয়।

তাদের ধারণা- কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে হয়তো শিথিলতা দেখাতে পারে। এজন্য অনেক ব্যাংক এখনো আমানত নিচ্ছে ৮-৯ শতাংশ সুদে। বিশেষ করে নতুন ও আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলো আমানতে উচ্চসুদ দিয়ে গ্রাহক আকর্ষণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটা সার্কুলার জারি হয়েছিল। সেই সার্কুলারের প্রেক্ষাপট এখন নেই। কি হবে- না হবে তা কয়েকদিন পরই বলা যাবে।

জানতে চাইলে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ বলেন, তাদের ব্যাংক ১ এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর করবে। পুরনো ব্যাংকের তুলনায় নতুন ব্যাংকগুলো আমানতে কিছুটা উচ্চসুদ দেয়। ঋণেও সুদ নেয় বেশি। সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে এনআরবি ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন বলেন, সুদহার কার্যকর নিয়ে আর ভাবার সময় নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে, এখন কার্যকর করতেই হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, এখন নয়-ছয় বাস্তবায়নের আর প্রয়োজন হবে না। কারণ নতুন করে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতেই পারবে না। ৬ শতাংশে ডিপোজিট পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং ডিপোজিট না হলে ঋণ কীভাবে দিবে। তাই ঋণ দিতে না পারলে ৯ শতাংশ আর ১২ শতাংশের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।

তিনি বলেন, যারা ৯-৬ শতাংশের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা লাভবান হবেন। কারণ তারা ১ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছেন। সুতরাং ৯ শতাংশ সুদহারে তারাই লাভবান হবেন, যারা ঋণ পুনঃতফসিল করিয়েছেন, যারা বড় বড় ইচ্ছাকৃত খেলাপি তারাই বরং এতে উপকারী হবে। সব ক্ষেত্রে খেলাপিরাই উপকৃত হচ্ছে। যারা ভালো লোক, তারা কখনো ঋণখেলাপি হবেন না, ৯ শতাংশ সুদহারে উপকৃতও হবেন না। ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য করোনা ভাইরাসের প্রভাবকে দায়ী করব না। এজন্য নয়-ছয়ই দায়ী। এই নয়-ছয়ই ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নামিয়ে নিয়ে এসেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ সব ধরনের শিল্প, গাড়ি, বাড়ি, আবাসনসহ কোনো ঋণে আর সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি সুদ নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। আগের দেয়া ঋণেও সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে হবে।

তবে আমানতের ক্ষেত্রে নিজেদের মতো করে সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। যদিও এর আগে ব্যাংকগুলো নিজেরা বসে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেয়াদি আমানতে আর ৬ শতাংশের বেশি সুদ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাংক মানছে না। বেসরকারি পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হালিম চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের জন্য এরই মধ্যে শাখাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের অ্যাসেট-লায়াবিলিটি কমিটির (অ্যালকো) বৈঠক করে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়ন করা সবার জন্য চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের কারণে আমদানি, রপ্তানির এলসি কমায় এটা বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। তবে এখনো অনেক ব্যাংক ৮-৯ শতাংশ সুদে আমানত নিচ্ছে। তারা কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করবে, তা এখন দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here