ওয়াটা কেমিক্যালকে মার্কেটে আসার অনুমোদন

0
378

wata-chemicals-logoস্টাফ রিপোর্টার : নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করার কারণে ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের কোম্পানি ওয়াটা কেমিক্যালকে মূল মার্কেটে ফেরানোর অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার কমিশনের ৪৮৫ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ বিষয়ে কোম্পানিকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনার বিদ্যমান প্রবিধানমালা বিবেচনা করে কমিশনের অনাপত্তি সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৯৯২ সালে তালিকাভুক্ত হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওয়াটা কেমিক্যালস। তালিকাভুক্তির পর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি তার শেয়ারহোল্ডারদের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিলেও পরবর্তী সাত বছর কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে ২০০৯ সাল থেকেই কোম্পানিটি পুঞ্জীভূত লোকসান থেকে বেরিয়ে আসে। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১২ সালের জন্য এ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এজন্য গত ২৯ জুন কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লোকসানের ধারা কাটিয়ে নিয়মিত লভ্যাংশ ও বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করায় কোম্পানিটি মূল মার্কেটে ফেরার আবেদন জানায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। স্টক এক্সচেঞ্জের পরামর্শে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহে বিএসইসিতে আবেদন জানায় কোম্পানিটি। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে গতকাল বিএসইসি অনাপত্তি জানায়। এখন স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটি পুনরায় তালিকাভুক্তির জন্য তাদের বোর্ড সভায় প্রস্তাব তুলবে। জানা গেছে, সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনঃতালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পন্ন হতে পারে।

বর্তমানে এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এর প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২২ টাকা ৫০ পয়সায়। বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৩৩ টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে উত্পাদন বন্ধ, লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা না করায় ওয়াটা কেমিক্যালসহ মোট ৫০টি জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বিএসইসি। পরে ২০১০ সালের ১ অক্টোবর শেয়ার ডিমেট না করায় আরো ২৫টি কোম্পানিকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হয়। এরপর একই বছরের ৫ অক্টোবর উত্পাদন বন্ধ থাকা আরো চারটি কোম্পানিকে ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তর করা হয়। তবে কাগুজে শেয়ার ডিমেটে রূপান্তরিত করায় ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি ওটিসি মার্কেট থেকে ১০টি কোম্পানিকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তরিত হওয়া ইউসিবিএলকে মূল মার্কেটে ফেরত আনা হয়।
এর আগে ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি কাগুজে শেয়ার থেকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তরিত হওয়া ১০ কোম্পানিকে স্বাভাবিক মার্কেটে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। ওটিসি মার্কেট থেকে স্বাভাবিক মার্কেটে ফিরিয়ে নেয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড, সমতা লেদার, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মডার্ন ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টার্স লিমিটেড, জিল বাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন জুট ম্যানুফাকচারিং লিমিটেড ও ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড।

– See more at: http://www.bonikbarta.com/sharemarket/2013/07/10/7970#sthash.DVHVnU1E.dpuf

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here