এ্যাস্কয়ার নিটের ৯ জুলাই বিডিং থেকে বিএসইসির নতুন বিধি

0
810

সিনিয়র রিপোর্টার : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে ৯ জুলাই ইলেকট্রনিক বিডিং শুরু করছে এ্যাস্কয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড। এতে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইআই) প্রথমবারের মতো নতুন আচরণ বিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) মানতে হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইআইদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন এই আচরণ বিধি প্রণয়ন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ইআইদের নতুন আচরণবিধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য একটি ‘বিডিং রেকমেন্ডেশন কমিটি’ গঠন করতে হবে। কমপক্ষে দুজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির সদস্যদের আনুষঙ্গিক জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কমিটি সিকিউরিটিজের ভ্যালু ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

প্রয়োজনে কী পরিমাণ শেয়ারের জন্য কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে, কমিটি তার প্রতিষ্ঠানকে সেটিও সুপারিশ করবে। সেসব সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নিলামে অংশ নেবে। কমিশন কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তের সুবিধার্থে বিডিংয়ে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইআইয়ের সিদ্ধান্ত ও কমিটির কার্যক্রমের সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

বস্তুনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করে বিডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইআই ও কমিটির সদস্যদের ডিউ ডিলিজেন্স ও স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত জ্ঞানের প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক, কারিগরি, পরিচালন, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, মালিকানা কাঠামোসহ সবদিক বিবেচনা করতে হবে কমিটিকে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভ্যালুয়েশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাগত জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত সব হিসাব, বিশ্লেষণ ও কার্যপদ্ধতি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

কোনো ধরনের প্ররোচনা, হস্তক্ষেপ কিংবা চাপ ছাড়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, সততা ও স্বাতন্ত্র্যতার সঙ্গে কমিটিকে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, অন্য ইআই কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না। বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্লেষণ, সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো গোপন রাখতে হবে।

বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যেক ইআইকে তাদের কমিটির ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ও হিসাব-নিকাশের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। সেখানে ভ্যালুয়েশন-সংক্রান্ত কোনো ব্যত্যয় দেখলে বিডিং পরিচালনাকারী এক্সচেঞ্জ সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করবে। আচরণ বিধি-সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ইআই কিংবা বিডিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

প্রসঙ্গত, বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় ইআইদের দায়িত্বশীলতার অভাবে শেয়ারের দর অনেক বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এ আচরণ বিধি প্রণয়ন করেছে বিএসইসি। আমান কটন ও বসুন্ধরা পেপারের শেয়ারদর ভ্যালুয়েশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ ওঠে। এমনকি বসুন্ধরা পেপারের ক্ষেত্রে ইআইদের করা ভ্যালুয়েশনের বিষয়ে তদন্তও করে কমিশন। তদন্তের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারদর নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে ইআইদের জন্য নতুন এ আচরণ বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইআইদের যৌক্তিক ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে আইপিওর শেয়ারের দর নির্ধারণের জন্য কমিশন বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালু করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফল ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে ইআইদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যত বিধি-নিষেধই আরোপ করা হোক না কেন, ইআইরা সৎ না হলেও যৌক্তিক ভ্যালুয়েশন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) জেনারেল সেক্রেটারি খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ বিডিংয়ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইআইদের জন্য নতুন আচরণ বিধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, শেয়ারের ভ্যালুয়েশনের যাবতীয় কার্যক্রম লিখিতভাবে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকায় এক্ষেত্রে ইআইরা আরো বেশি দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের জন্য ৯ জুলাই যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইআই) কাছ থেকে দরপ্রস্তাবের জন্য বিডিং শুরু করবে এ্যাস্কয়ার নিট কম্পোজিট। স্টক এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত ইলেকট্রনিক প্লাটফরমের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এ কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ারের জন্য দরপ্রস্তাব করতে পারবে ইআইরা।

বুক বিল্ডিংয়ের নিয়ম অনুসারে, ইআইদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মূলধনের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট। যে দামে ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির কোটা পূরণ হবে সেটি হবে এ কোম্পানির কাট অফ প্রাইস। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের জন্য নির্ধারিত বাকি ৪০ শতাংশ শেয়ার কাট অফ প্রাইসের চেয়ে ১০ শতাংশ কমে কেনার আবেদন করতে পারবেন।

ঘোষণা অনুসারে, উত্তোলিত অর্থ কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ, ভবন নির্মাণ, ডায়িং ও ওয়াশিং প্লান্টের জন্য যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় হবে। আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ মেটাতেও কিছু অর্থ ব্যয় করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here