এ্যাপোলো ইস্পাতে রহস্য!

1
3056

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০১৩ সালে শেয়ারবাজার থেকে প্রিমিয়ামসহ ২২০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করে এ্যাপোলো ইস্পাত। উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও নন-অক্সিডাইজিং ফারনেস (এনওএফ) প্রকল্পেগু বিনিয়োগ। আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি কোম্পানিটি।

পাঁচ বছর পর এনওএফ প্রকল্প বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরই মূলধন সংকটে বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। কিন্তু এ-সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি তারা। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটও বন্ধ রয়েছে।

যদিও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কারখানায় উৎপাদন চালু ও বন্ধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসংবেদনশীল তথ্য। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে এ ধরনের তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেয়ারহোল্ডারদের জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ এ্যাপোলো ইস্পাত আইপিওর অর্থে বাস্তবায়িত এনওএফ প্রকল্পে উৎপাদন শুরুর বিষয়ে ডিসক্লোজার দিলেও বন্ধের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ না করায় বছরখানেক ধরে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন এর শেয়ারহোল্ডাররা।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দীন মোহাম্মদের কোম্পানি এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসার আগেই আলোড়ন তুলেছিল। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রসপেক্টাসে অন্যের জমি নিজের নামে দেখানোর পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে বেশি সম্পদ দেখায় তারা। এ কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির আইপিও আবেদন বাতিল করে। আইপিওতে আসার পরও এনওএফ ইউনিট বন্ধ থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

২০১৩ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে এ্যাপোলো ইস্পাতের সংগ্রহ করা ২২০ কোটি টাকার মধ্যে ১২০ কোটিই প্রিমিয়াম। ১৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এনওএফ প্রকল্পেগু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এ তহবিল সংগ্রহ করে কোম্পানিটি।

আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে, এনওএফ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে আইপিওর অর্থ বাদে কোম্পানির নিজস্ব উৎস থেকে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে এর কাজ শেষ করতে পারেনি কোম্পানিটি। নির্ধারিত সময়ে এনওএফ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় এর ব্যয় বেড়ে ২০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এনওএফ প্রকল্পে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দেয় এ্যাপোলো ইস্পাত। এর আগে ১৪ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চালায় কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিসক্লোজারও দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে অবস্থিত কারখানায় এনওএফ প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরই মূলধন সংকটে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নগদ অর্থ সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল এইচআর কয়েল ও জিংকের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরনো দুটি ইউনিটে ঠিকমতো উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।

গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে এ্যাপোলো ইস্পাতের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। উৎপাদন চললেও সীমিত পরিসরে। মাঝেমধ্যে কিছু ট্রাক কারখানায় আসা-যাওয়া করছে। কারখানার কয়েকজন শ্রমিকসহ আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ধুমধাম করে মন্ত্রী-এমপিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এনওএফ ইউনিট উদ্বোধনের পরদিনই এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অর্থ সংকটে কারখানা বন্ধের পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই শুরু করে কোম্পানিটি। এমনকি কয়েক মাসের বকেয়া অর্থ আদায়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে গেলে পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

দীর্ঘদিন কারখানায় কাজ করছেন এমন একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অর্থ সংকটে শ্রমিকদের অনেককেই ছাঁটাই করা হয়েছে। কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রমও চলছে খুঁড়িয়ে। তাছাড়া জালালাবাদ ঢেউটিনের কিছু অর্ডারের কাজ চলছে।

সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের বাধ্যবাধকতাও লঙ্ঘিত হয়েছে কোম্পানিটিতে। এ্যাপোলো ইস্পাতের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে কোম্পানিটির ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তাছাড়া কোম্পানিটির অফিশিয়াল ওয়েসবাইটও অকার্যকর। ফলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারছেন না।

এ্যাপোলো ইস্পাতের সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার জন্য বলব। তারা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ্যাপোলো ইস্পাতের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকাভুক্তির পরের পাঁচ বছর কোম্পানিটির বিক্রি ও মুনাফায় ধারাবাহিকতা ছিল। এর মধ্যে ২০১২-১৩ হিসাব বছরে ৫০৬ কোটি টাকা বিক্রির বিপরীতে কর-পরবর্তী মুনাফা হয় ৩৬ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ৫৭১ কোটি টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা আসে ৪৭ কোটি টাকা।

এ্যাপোলো ইস্পাতের পারফরম্যান্সের অধোগতির শুরু মূলত ২০১৬ সালের শেষের দিকে। ডিএসইকে দেয়া তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জিংক পট (যেখানে গ্যালভানাইজিং করা হয়) ভেঙে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটির সিজিএল-২ ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ইউনিটটি বন্ধ থাকার কারণে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির ৬০ কোটি টাকার বিক্রি কমার পাশাপাশি মুনাফা হ্রাস পায় ৭৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ হিসাব বছর থেকেই কোম্পানিটির বিক্রি ও মুনাফা ক্রমনিম্নমুখী।

সর্বশেষ ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৩৮৬ কোটি টাকা বিক্রির বিপরীতে মুনাফা হয়েছে মাত্র ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসম্বের) কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা, এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১৫ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির আর্থিক দুরবস্থার কারণ জানতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এ্যাপোলো ইস্পাতের করপোরেট কার্যালয়ে গিয়ে কথা হয় এর পরিচালক মো. রফিকের সঙ্গে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের শুরুতে জিংক পট ভেঙে যাওয়ায় কোম্পানিটির সিজিএল-২ ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নতুন আরেকটি জিংক পট আনা হয় এবং সেটিও ভেঙে যায়। পাশাপাশি সে সময় বেশ কয়েকটি রোটর মেশিনে সমস্যা দেখা দেয়।

ফলে তখন চার মাসের মতো কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় আন্তর্জাতিক বাজারে এইচআর কয়েল ও জিংকের দরবৃদ্ধি। তার ওপর চলতি মূলধন সংকটের কারণে পর্যাপ্ত কাঁচামাল আমদানি করাও সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণেই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে এ্যাপোলো ইস্পাত। এনওএফ প্রকল্পটি চালু রাখতে হলে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন, যা বর্তমান বাস্তবতায় মূলধন সংকটের কারণে সম্ভব না। এ কারণে চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারার কারণ হিসেবে মো. রফিক বলেন, গ্যাস সংযোগ পেতে দেরি হওয়ার কারণে সময়মতো এনওএফ প্লান্টটি চালু করা যায়নি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশকিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায় মন্দার কারণে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেলে কোম্পানির চলতি মূলধন সংকট কাটানো সম্ভব হবে। তখন বড় পরিসরে কাঁচামাল আমদানির মাধ্যমে আবারো পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা গেলে সংকট কেটে যাবে।

এ্যাপোলো ইস্পাতের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির ৭০ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও ২৩৫ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে। তাছাড়া ৮১ কোটি টাকার ওভারড্রাফটও রয়েছে তাদের। এদিকে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৭৬ কোটি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ্যাপোলো ইস্পাতকে ঋণ দেয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যমুনা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, আইএফআইসি, মার্কেন্টাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), এনসিসি ও এসআইবিএল। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফিনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফিন্যান্স, ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, মাইডাস ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।

এ্যাপোলো ইস্পাতকে দেয়া ব্যাংকঋণ এরই মধ্যে খেলাপি হতে শুরু করেছে। কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থেই এ্যাপোলো ইস্পাতের ঋণ খেলাপি দেখাচ্ছে না। ঋণের কিস্তি অনিয়মিত হলেও তা পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হচ্ছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণ থেকে বাঁচতেই এমন নীতি গ্রহণ করেছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে দীন মোহাম্মদের সুনাম এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে খেলাপি দেখানো হচ্ছে না বলে জানান ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা।

এ্যাপোলো ইস্পাতের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের। এরই মধ্যে খেলাপির খাতায় যুক্ত হয়েছে এ ঋণ। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম কামাল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ্যাপোলো ইস্পাতকে দেয়া সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ কেন খারাপ হলো, সেটি আমি জানি না। আশা করছি, অচিরেই তারা ঘুরে দাঁড়াবে।

এ্যাপোলো ইস্পাতকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর আরেকটি এমটিবি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খান বলেন, দীন মোহাম্মদ দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি খারাপ হোক আমরা চাই না।

তবে একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর ভাষ্য, এ্যাপোলো ইস্পাতের নতুন ইউনিট করা হলেও সেটির প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়নি। উদ্যোক্তাদের খামখেয়ালির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপদে পড়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা না হলেও এ্যাপোলো ইস্পাতকে খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না। কারণ প্রতিষ্ঠানটিকে খেলাপি দেখালে বিনিয়োগকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঞ্চিতি বেড়ে যাবে।

দীন মোহাম্মদ ও মো. আনসার আলীর উদ্যোগে এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড যাত্রা করে ১৯৯৪ সালে। কোম্পানিটি বাজারে রানী মার্কা নামে ঢেউটিন বাজারজাত করে। কোম্পানিটির প্রথম সিজিএল ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। দ্বিতীয় সিজিএল ইউনিট উৎপাদনে যায় ২০০২ সালে আর ২০০৫ সালে শুরু হয় সিআরএম ইউনিটের উৎপাদন। এ্যাপোলো ইস্পাতের বর্তমান চেয়ারম্যান দীন মোহাম্মদ ফিনিক্স গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রতিষ্ঠাতা।

গ্রুপটির আওতায় ফিনিক্স টেক্সটাইল মিলস, ফিনিক্স স্পিনিং মিলস, ফিনিক্স ফ্যাব্রিকস, রংধনু স্পিনিং মিলস, ইস্টার্ন ডায়িং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং ওয়ার্কস ও পলাশ স্পিনিং মিলসের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া দীন মোহাম্মদ সিটি ব্যাংক, ফিনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স সিকিউরিটিজ ও ফিনিক্স হোল্ডিংসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

এ্যাপোলো ইস্পাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনসার আলী। একই সঙ্গে তিনি তেজগাঁও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন ডায়িং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তথ্য সূত্র : বণিক বার্তা।

1 COMMENT

  1. মন্দ ইউনাইটেড এয়ারের রহস্য নিয়ে লিখেন।এর দাম ২.৫০টাকা।স্টক বাংলাদেশে বহু ভাল ভাল নিউজ প্রকাশ করা হয়েছেএই মন্দ কোম্পানি নিয়ে। এটা কি কোম্পানি?না, অন্য কিছু।বিস্তারিত রহস্য জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here