এসিআইয়ের মুনাফা বেড়েছে ২০ গুণ

0
1931
সিনিয়র রিপোর্টার : এসিআই লিমিটেড চলতি অর্ধবার্ষিকীতে আকাশচুম্বী মুনাফা দেখিয়েছে। সম্প্রতি কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসসি জনসন অ্যান্ড সন্স কোম্পানির কাছে তাদের তিনটি ব্র্যান্ড বিক্রি করেছে। তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানির  অনিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে যোগ হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসিআইয়ের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি বেড়েছে।

প্রকাশিত অনিরীক্ষিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এসিআইয়ের (সাবসিডিয়ারি বাদে) কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৩১ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৩০ পয়সা। ব্র্যান্ড বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মুনাফা বাদ দিলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়ায় ৫ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১১ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা।

গত ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের এসসি জনসন অ্যান্ড সন্স কোম্পানির কাছে ২৫০ কোটি ২০ লাখ টাকায় এসিআই ইনসেকটিসাইডস, অ্যানজেলিক এয়ার কেয়ার এবং ভ্যানিশ ব্র্যান্ড বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানায় এসিআই লিমিটেড। ব্র্যান্ড তিনটি বিক্রির অর্থ কোম্পানির আর্থিক হিসাবে যোগ হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় অঙ্কের মুনাফা করে এসিআই।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসিআইর পরিচালন মুনাফা হয় ৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্র্যান্ড বিক্রিসহ অন্যান্য আয় মিলে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়ায় ৩১৮ কোটি ৯৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে (জানুয়ারি-জুন) এসিআইর কর-পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়ায় ৩৭৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এ সময়ে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বাদে এসিআইর কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিক শেষে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ২৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ও ইপিএস ৪ টাকা ১ পয়সা।

জানা গেছে, মূলত রসায়ন খাতের মাধ্যমে পরিচিত এবং ব্যবসা গড়ে তুললেও এখন কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে এসিআই। এ কারণেই তিনটি ব্র্যান্ড বিক্রি করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমে এ পণ্য উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ করবে এসিআই ও জনসন।

এসসি জনসন অ্যান্ড সন্স কোম্পানির কাছে বিক্রি হওয়া তিনটি ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে মশার কয়েল, অ্যারোসল ও টয়লেট ক্লিনার। বাজার শেয়ার বিবেচনায় তিনটি ব্র্যান্ডই ছিল প্রথম সারিতে। এর মধ্যে মশার কয়েলের বাজার শেয়ার ছিল ৩৯ এবং অ্যারোসলে ৮৩ শতাংশ। এছাড়া বাজারে তাদের টয়লেট ক্লিনার ভ্যানিশও ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে।

দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইএসও ৯০০১ সনদ অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই। তারা ক্রমে কৃষিতে মনোযোগ বাড়াচ্ছে। বর্তমানে কোম্পানির আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষিভিত্তিক শিল্প থেকে আসছে। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে এসিআই লিমিটেডের সমন্বিত বিক্রি ছিল ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এসিআই ফার্মার বিক্রি ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, এসিআই কনজিউমার ব্র্যান্ডসের ১০৩ কোটি ৯০ লাখ ও রিটেইল চেইন স্বপ্নের বিক্রি ছিল ২৭৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর বাইরে অ্যানিমেল হেলথ, করপ কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, এসিআই মোটরস, এসিআই ফ্ল্যাওয়ার, এসিআই সল্ট, এসিআই ফুডস ও প্রিমেফ্লেক্স থেকে অবশিষ্ট আয় এসেছে। এর মধ্যে এসিআই ফুডস ও রিটেল চেইনের ব্যবসায় এখনো লোকসান গুনতে হচ্ছে এসিআই লিমিটেডকে।

এসিআই লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিতভাবেই আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। গত সাত বছরে একবারও তাদের লভ্যাংশ ১০০ শতাংশের নিচে নামেনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। সে সময় কোম্পানির ইপিএস দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৬৮ পয়সা।

১৯৭৬ সালে তালিকাভুক্ত এসিআই লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৩৩৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ৩০ দশমিক ৬২ এবং বাকি ৩৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৪১ দশমিক ৪৯। প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ৭৫ দশমিক ৪৩ এ ঠেকেছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি ইম্পেরিয়াল কেমিক্যালসের যৌথ উদ্যোগের স্থানীয় মালিকানা অধিগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান উদ্যোক্তাদের হাতে যাত্রা হয় এসিআই লিমিটেডের। আইসিআই নামক প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯২৫ সাল থেকে সার ও কেমিক্যাল ব্যবসা শুরু করলেও পরে ওষুধ ও কৃষিপণ্যের কেনাবেচা শুরু করে। ১৯৯২ সালে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হস্তান্তরের পর অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) লিমিটেড নামে যাত্রা হয় আইসিআই লিমিটেডের।

তত্কালীন আইসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আনিস-উদ-দৌলা নিয়মমাফিকভাবে কোম্পানি অধিগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত তার পরিবারের নেতৃত্বেই এসিআই একটি পরিপূর্ণ গ্রুপ অব কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি রাসায়নিক, ওষুধ, ভোগ্যপণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কৃষি প্রযুক্তি ছাড়াও খুচরা বিক্রয় চেইন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে।

বর্তমানে গ্রুপের বার্ষিক আয়ের মূল উত্স কৃষিভিত্তিক ব্যবসা। আর দেশের কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ও সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে এ খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে চায় এসিআই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here