এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশের অগ্রগতি নেই

0
330

ডেস্ক রিপোর্ট : এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর আওতায় এশিয়ান হাইওয়ের দুটি সড়ক ও একটি সংযোগ সড়কে ১৭টি সেতুসহ কালভার্ট, টোলপ্লাজা এবং এক্সেল লোড স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু অনুমোদনের দুই বছর পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। প্রকল্পের ভৌত কার্যক্রম শুরু না হলেও এরই মধ্যে এক দফা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে প্রকল্প কার্যালয়।

জানা গেছে, ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবসহ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংশোধিত ডিপিপি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে।

ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রকল্প কর্মকর্তারা কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি ও ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় মহাসড়কের দুই পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য সেতুগুলোয় ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেন সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে অবস্থিত আটটি সেতুতে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক দুই লেনসহ ছয় লেন, একটি সেতুতে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক দুই লেনসহ চার লেন করা হবে। এটি আগে চার ও দুই লেনে হওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কেএম আতিকুল হক বলেন, শুরুতে প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য সেতুগুলোয় ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের সংস্থান ছিল না। পরে এগুলো যোগ করা হয়েছে। এতে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও সার্বিক ব্যয় বেড়ে যাবে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনে ভূমি অধিগ্রহণ মূল্য ৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ ও ৩০০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের কাজের পরিধি বাড়ছে দেড় গুণ। এ তুলনায় ব্যয় ৫০ শতাংশের উপরে বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে প্রকল্প ব্যয় এখনো আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই থাকছে। ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা এরই মধ্যে ডিপিপি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে ব্যয় কাটছাঁট করে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জাইকা ও ৬৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। তবে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় ৫৩ শতাংশ বা ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার লেনের সেতুগুলোয় ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেনের সংস্থান রাখার প্রয়োজনীয়তা ও এর ফলে নির্মাণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জাইকাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাইকা সেতুগুলোয় অতিরিক্ত লেন রাখার বিষয়টিতে সম্মতি দেয়। তবে এ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ দেবে না বলে জানিয়ে দেয় সংস্থাটি। পরবর্তীতে প্রকল্পের বাড়তি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে বহনের প্রস্তাব দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অনুমোদনের দুই বছর পরও প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দরপত্র ও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো কাজই শুরু হয়নি। প্রকল্পে এ পর্যন্ত পরামর্শক, যানবাহন ক্রয়, ভূমি অধিগ্রহণ ও রাজস্ব খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আতিকুল হক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে। সে অনুযায়ীই আমরা সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

প্রসঙ্গত, ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার জন্য ১৭টি সেতু ও আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে এএইচ-১ (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-কালনা-যশোর-বেনাপোল) সড়কে পাঁচটি সেতু, একটি টোলপ্লাজা ও একটি এক্সেল লোড স্টেশন স্থাপন করা হবে। এএইচ-৪১ (চট্টগ্রাম-কক্সবাজার) সড়কে চারটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এএইচ-৪১ এর বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সংযোগ সড়কে আরো আটটি সেতু, সাতটি কালভার্ট ও একটি এক্সেল লোড স্টেশন স্থাপন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here