শ্যামল রায়ঃ এখন বাজার প্রায় প্রতিদিনই কম-বেশী কারেকশন হচ্ছে। এর মধ্যে কোন কোন কোম্পানি ভাল করছে। বিশেষ করে ভাল মৌল ভিত্তির কোম্পনিগুলো ভাল পারফর্ম করছে। কাজেই আমাদের ও উচিত প্যানিক না হয়ে স্টেডি ওয়েতে বিনিয়োগ করা। হুজুগে বিনিয়োগ কখনোই নয়। বলছিলেন ক্ষুদ্র বিনিয়োকারী মোঃ রিজওয়ানুর রহমান।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেন তিনি অনেক দিন ধরেই। শেয়ার বাজারে বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন ‘স্টক বাংলাদেশ’ এর সাথে।

আমার মতে মার্কেট এই মুহুর্তে বাজার স্টেবল। একটু খেয়াল করলে দেখবেন এখন বাজারে সবগুলো সেক্টর একসাথে ধাপ করে পড়ে না। আবার উঠেও না। সেক্টর ওয়াইজ উঠানামা করে। এই দেখুন না কয়েকদিন আগে ব্যাংক হু হু করে বাড়ল। ফেস ভ্যালুর নিচে যে ব্যাংকগুলো ছিল সেগুলো এখন ১৭-১৮ টাকা হয়ে গেছে। তার মানে ৮ টাকা ৯ টাকা দামের ব্যাংকের শেয়ার এখন ১৬ টাকা ২০ টাকা হয়েছে। আর কত বাড়বে।

আসলে দোষ আমাদের বিনিয়োগকারীদেরই। তারা হিসাব নিকাশ ভাবনা চিন্তা না করেই শেয়ার কিনেন। আর কেনার পরেই বলে আমারটা বাড়ছে না কেন। ধরুন যে শেয়ারটার দাম ৮ টাকা থেকে ১৬ টাকা হয়েছে সেটা আর কত বাড়বে। এখন আমার মত একজন বিনিয়োগকারী যে কিনা ১৬ টাকায় কিনে ধরা খেয়ে বসে আছে। বলে শেয়ারের দাম বাড়ছে না।

আন্ডার প্রাইজে থাকা অবস্থায় আমরা কোন শেয়ার কিনতে চাই না। বরং যখন বাড়ে কিংবা বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত অবস্থায় যায় সেগুলোই কিনি আর ধরা খাই। এটা তো বাজারের দোষ নয়।

আমার মনে হয় সামনে পাওয়ার সেক্টর খুব ভাল করবে। কারন পাওয়ার সেক্টর অনেক দিন ধরেই নড়চড় করছে না। এমনিতেই গরমের সময় তাছাড়া পাওয়ার সেক্টরের দিকে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন। এছাড়া ঔষধ সেক্টরও ভাল হবার কথা। কারন, বাংলাদেশের ঔষধে বিদেশের বাজারে বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছে।

আপনার পোর্টফোলিওর অবস্থা কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,”আমার পোর্টফোলিওতে এই মূহুর্তে আমি অবশ্য লসে আছি। কারন যেগুলো কিনেছি সেগুলো থেকে বের হতে পারছি না। আশা করছি সামনে লস কাটিয়ে উঠতে পারব।”

কোন কোম্পানী শেয়ার কেনার আগে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে কোন কোন বিষয়ে খেয়াল করা উচিত বলে আপনি মনে করেন – প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে বেচার সময় নয় কেনার সময়ই লাভের বিষয়টা চিন্তা করি। আর ডাউন মার্কেটই হলো বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়। আর কোন কোমম্পানী শেয়ার কিনতে হলে সেটাকে একেবারে না কিনে ৪/৫ বারে আস্তে আস্তে কেনা উচিত। কিন্তু লাভ হয় তো কম হবে, কিন্ত লসের সম্ভাবনা নেই।

কোম্পানির গুডউইল এবং পরিচালকদের সামাজিক অবস্থানটাও বিবেচরনায় আনা দরকার। বিগত বছর গুলোতে তারা কি রকম লভ্যাংশ দিয়েছে সেটাও মাথায় রাখা উচিত।

আমার মতে পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট শেয়ার ব্যবসায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন, প্রথম দিকে আমার পোর্টফোলিও ঠিকভাবে ডিজাইন করতে না পারার কারনে এখনও লোকসান দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাকে। কারন আমি চাইলেও সহজে একটি শেয়ার থেকে বের হয়ে আসতে পারি না। তবে আশার কথা হলো বাজারে ভাল ভাল অনেক কোম্পানি ঢোকার পাইপ লাইনে রয়েছে। এদিকে সরকারী মনোযোগও বোধ হয় আছে। কাজেই বাজারে টাকার ফ্লো বাড়লে বাজার ভাল হবেই।

অনেকেই বলে থাকেন, বাজার ভোলাটাইল হয়ে গেছে। আসলে বাজার ভোলাটাইল না হলে শেয়ারের দাম উঠবে বা বাড়বে কেমন করে। প্রাইস উঠা নামা না করলে তো কেউ এখানে বিনিয়োগ করতে আসবে না। আরেকটা কথা, শেয়ার মার্কেটে সবসময় নিউজ থাকবে। এই নিউজ গুলোকে জাষ্টিফাই করার দায়িত্ব আমার। কোনটা ঠিক আর কোনটা বে ঠিক। রিউমার শেয়ার বাজারের নৈমিত্তিক ঘটনা আমার দৃষ্টিতে ‘এভরি রিউমার ইজ অ্যা বাই সিগন্যাল ’।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here