‘এবার কোন শেয়ার কিনব’

8
11523

পুঁজিবাজারে যারা নতুন যুক্ত হয়েছেন, তাদের একটি প্রশ্ন ‘কোন শেয়ার কিনব’? এমনকি যারা দীর্ঘ সময় ধরে আছেন, তারাও এমন প্রশ্ন করেন। উত্তরে পুরোনোরা দু-একটা কোম্পানির শেয়ারের নাম বলেন। কিন্তু নতুনদের কখনই ব্যাখ্যা করা হয় না ‘কেন ওই শেয়ারটি কিনবো?’

নতুন বিনিয়োগকারী কিছু দিন পর আবার আবার একই প্রশ্ন নিয়ে হাজির ‘এবার কোন শেয়ার কিনব?’।

পুরোনো একটি প্রবাদ আছে (সম্ভবত চাইনিজ), তা হলো- অন্ন প্রার্থীকে একবার খাবার দেয়ার চেয়ে মহত্ত্বের কাজ তাকে শস্য উৎপাদন প্রণালী শিখিয়ে দেয়া।

যেহেতু আপনি একজন নতুন বিনিয়োগকারী, সেহেতু প্রথমেই ঝুঁকিগ্রহণ আপনার জন্য বিপদজনক। তার চাইতে ঝু‍ঁকিমুক্ত হয়ে তুলনামূলক কম লাভে ব্যাবসা শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে কিভাবে কাঙ্খিত কোম্পানির শেয়ার বাছাই করবেন?

ক. ঢাকা ও চিটাগং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে DSE30 ও CSE50 নামে দুটি ইনন্ডেক্স রয়েছে। ইনন্ডেক্সটি আসলে স্বল্প বাজারের সবচে ভাল কোম্পানির শেয়ারের সমন্নয়ে তৈরি। তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর নাম দেখুন।

খ. কোম্পানির নামের পাশে বর্তমান দাম ও সর্বশেষ দেয়া ডিভিডেন্ড লিখে রাখুন।

গ. এখান থেকে সবয়ে বেশি ডিভিডেন্ড দেয়া ১০টি কম্পানিকে চিহ্নিত করুন। তাদের নিয়ে একটি তালিকা হাতে রাখুন।

ঘ. দ্বিতীয় তালিকা থেকে সবচেয়ে কমদামী (বর্তমান শেয়ার মূল্য) ৫টি কম্পানি নিয়ে তৃতীয় একটি তালিকা করুন।

বাছাই প্রক্রিয়া শেষ, এবার শেয়ার কেনার পালা। কেনার জন্য আপনি ৩টি উপায়ের যে কোন একটি অনুসরণ করতে পারেন। যা নির্ভর করবে টাকার পরিমাণের ওপর।

উপায় বুঝে নিন

ক. আপনার ক্যাশ ২ লাখ টাকা (ধরে নিই)। সমান ভাগ করে আপনি দ্বিতীয় তালিকায় থাকা ১০টি কোম্পানির শেয়ার কিনুন। মানে প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করবেন।

খ. সমান ভাগে ভাগ করে তৃতীয় তালিকায় থাকা ৫টি কোম্পানির শেয়ার কিনুন। প্রতিটির জন্য ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করবেন।

গ. তৃতীয় তালিকায় থাকা ৫টি কোম্পানির মধ্যে ২য় ও ৩য় শেয়ারটি কিনুন। মানে প্রতিটির জন্য ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করবেন।

অথবা, আরো চাই স্টক বাংলাদেশ -এর এডভান্সড বা বেসিক টেকনিক্যাল এনালাইসেস ট্রেনিং প্রশিক্ষণ।
** পদ্ধতিটি মিশেল হিগিন্স প্রদত্ত Doges of Dow ইনভেস্টমেন্ট স্ট্রেটেজি হিসেবে পরিচিত।

8 COMMENTS

  1. ডিএসিই ৩০ কোন কথা নয়। যে সমস্ত কোম্পানি নিয়মিত ৩০ পার্সেন্টের উপর ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিচ্ছে এবং যাদের পাবলিক শেয়ার কম ঐ সমস্ত কোম্পানির শেয়ার কিনুন আপনি প্রতারিত হবেন না।

  2. Everyone must have to see Judgement ! 1. Why Beximco Pharma 70 – 80, Square Pharma 240 – 260 Why they differ ? 2. In this market, any 1 company can profit 175 times in 10 taka ( Glaxosmith ) & also 1 company can profit 7.5 times in 10 taka ( Lafarge )? 3. In 2015 Which company came in IPO at Face value ? 4. Why DSE dont give Notice at loosing price ? 5. Is my money truely deposit for IPO Application ( See Here, Companies Info > New Issues IPO > IPO Under fixed price Method > Consolidated list of Applications ( Match your 15 Digit BO ID )

  3. শেয়ারে বিনিয়োগ করার জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু বিবেচ্য বিষয়ঃ-
    অধিকাংশ কোম্পানীগুলোর অবস্থা শোচনীয় অবস্থা। আইপিওতে প্রক্রিয়া,আবেদন থেকে শেয়ার বাজারে আসা পর্যন্ত প্রতিটি সেকটরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অনিয়ম, দায়বদ্ধহীনতা ও জবাবদিহিতা না করার জন্যই শেয়ার বাজারের চরম অবস্থা। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতি গ্রস্থ ও তাদের কান্না। কে দেখবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে হয় অশুরের কাছে জিম্মি, অসহায় কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। এই দূর্দীনে অশুরকে নাশ করার জন্য দূর্গা দেবীর আগমন আবশ্যক।

    দেশের শেয়ার বাজারে প্রবেশকৃত কিছু কোম্পানী ভাল অবস্থানে রয়েছে। ভাল কোম্পানীর বিবেচ্য বিষয় গুলো সহজ সরল ভাষায় তুলে ধরা হলো।
    ১। কোম্পানী গুলো দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
    ২। দেশী ও বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদা ও গুনগত মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন।
    ৩। দেশ যত দূর্যোগ পূর্ণ হউক না কেন পণ্য যথা সময়ে অর্ডার মাফিক পৌঁছানো।
    ৪। টেকনিক্যাল সার্ভিস নিশ্চিত করণ।
    ৫। দেশের সকল রাজনেতিক দলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
    ৬। কোম্পানী রাজনীতি মুক্ত।
    ৭। কোম্পানীর উদ্যোক্তা, পরিচালকদের সমাজিক মর্যাদা।
    ৮। কোম্পানীর কর্মী ও কর্মকর্তাদের যথার্থ ভাবে মূল্যায়ন করে বেতন, বোনাস, ইনক্রিমেন্ট,ইনটেনসিভ প্রদান করা।
    ৯। কর্মী ও কর্মকর্তা ও তাদের ছেলেমেয়েদের চিত্ত বিনোদন এর ব্যবস্থা করা।
    ১০। উত্তম কর্মীদের পুরস্কার প্রদান করা।
    ১১। ফাউন্ডেশন করে সামাজিক, দাতাব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
    ১২। স্বচ্ছ হিসাব রাখা।
    ১৩। নিয়মিত এজিএম ও লভ্যাংশ প্রদান।
    ১৪। উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মী ও কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে।
    ১৫। মিতব্যয়িতা।

    বর্ণিত বিবেচ্য বিষয়ের কোম্পানীর মূলধন সংগ্রহের জন্য আইপিওতে আসা প্রয়োজন নাই। তারপরেও হয়ত নিয়ম রক্ষার্থে পাবলিকদের জন্য সর্ব্বোচ্চ ২০% আইপিও দিয়ে মূলধন সংগ্রহ করে। এই সকল কোম্পানীর উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মী ও কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা অনেক অনেক বেশী। সকলে পরিশ্রমী হয়। কর্মী সন্তোষ বজায় থাকে। এখানে আইপিওতে আসার জন্য কোন প্রকার ছলচাতুরী, অসতা, অতিরিক্ত খরচ নেই বললেই চলে। এই সকল কোম্পানীর লোকসান হয় না। কোম্পানী তরতর করে বৃদ্ধি পায়। ন্যাভসহ আর্থিক ইন্ডিকেঁটরস গুলো ভাল থাকে বিনিয়োগকারীদের ভাল লভ্যাংশ দিতে পারে। এখানে কারসাজিকারীরা তেমন একটা ফয়দা করতে পারে না।
    আমার শতভাগ বিশ্বাস দেখে শুনে বুঝে এই সকল কোম্পানীতে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ার সম্বভনা কম। আর যে সকল কোম্পানী পাবলিকের সিংহ ভাগ টাকায় চলে তাদের দায়বদ্ধতা কম ফলে যা হওয়ার তাই ঘটে। আর প্রতিনিয়ত তাই ঘটছে আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দিনের পর দিন ফতুর করছে। কেউ প্রকাশ করছে আর কারও দীর্ঘ শ্বাস আকাশে বাতাসে ভাসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here