ব্যবসা কমেছে জিএসকে বাংলাদেশের

0
381

সিনিয়র রিপোর্টার : আগের বছরের মতো সর্বশেষ হিসাব বছরেও দেশের বাজারে ব্যবসা সংকুচিত হয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের। ২০১৬ সালে ফার্মাসিউটিক্যাল ও কনজিউমার উভয় পণ্যে বিক্রি কমে যাওয়ায় বছর শেষে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ রেভিনিউ হারিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি।

২০১৫ সালেও ব্যবসা কমায় দুই বছরে এর বিক্রি কমেছে ১৩ শতাংশ।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বাজারে কনজিউমার পণ্যের অবৈধ প্রবেশ, কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা ও স্থানীয় ওষুধ কারখানায় আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা কমেছে জিএসকের। উভয় খাতের পণ্য বিক্রি কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সর্বশেষ হিসাব বছরে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ মুনাফা হারিয়েছে কোম্পানিটি।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত বছরে ৪১ কোটি ৪৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা বা ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ রেভিনিউ হারিয়েছে জিএসকে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে কোম্পানিটির মোট রেভিনিউ দাঁড়িয়েছে ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ ১৫ হাজার  টাকা, আগের বছর যা ছিল ৬৬৯ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

২০১৪ হিসাব বছরে মোট রেভিনিউ ছিল ৭১৮ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার  টাকা। ২০১৪ সালের তুলনায় ৪৮ কোটি ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বা ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ রেভিনিউ কমেছে ২০১৫ হিসাব বছরে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০১৬ হিসাব বছরে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৬১ হাজার টাকার রেভিনিউ কমেছে জিএসকের। ২০১৬ সালে কোম্পানিটির টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ২২০ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ২০১৪ হিসাব বছরে এ খাতে মোট টার্নওভার ছিল ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯৬ হাজার  টাকা।

কনজিউমার হেলথকেয়ার খাতে ২০১৬ সালে রেভিনিউ আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ টাকা কমে জিএসকের। সর্বশেষ বছরে এ খাতে মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ৪৪৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায়। ২০১৪ হিসাব বছরে এ খাতে বিক্রি ছিল ৫১৪ কোটি ৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

এদিকে পণ্য বিক্রি কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে বহুজাতিক কোম্পানিটির। ২০১৬ সালে এর পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬৬ কোটি ৩১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ১৫৯ কোটি ৩৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ২০১৪ হিসাব বছরে এ খাতে মোট ব্যয় ছিল ১৮৪ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

পণ্য বিক্রিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সর্বশেষ হিসাব বছরে নিট মুনাফা আগের তুলনায় ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা কমেছে গ্ল্যাক্সেস্মিথক্লাইনের। বছর শেষে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৪ হিসাব বছরে কর-পরবর্তী ৮২ কোটি ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নিট মুনাফা দেখিয়েছিল এ কোম্পানি।

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসহ ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে জিএসকে বাংলাদেশ। বছর শেষে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫৩ টাকা ৫১ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৬৮ টাকা ৯৯ পয়সা। ২০১৪ হিসাব বছর শেষে ইপিএস ছিল ৬৮ টাকা ৬৩ পয়সা।

জিএসকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কনজিউমার পণ্য বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অবৈধ পণ্যের আমদানি ও পরিবেশকদের কাছে থাকা স্টকের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের বিক্রি কমার কারণ হিসেবে আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ, কাঁচামাল সরবরাহ সংকট ও চট্টগ্রামে কারখানার সম্প্রসারণ কাজে উত্পাদন ব্যাহত হওয়াকে দায়ী করেছে কোম্পানিটি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে ওষুধ আমদানিকারক হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে জিএসকে। ১৯৬৭ সালে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে উত্পাদন শুরু করে। একপর্যায়ে মূলত হরলিকসের মাধ্যমে ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) উত্পাদনেও শক্তিশালী অবস্থান করে নেয় জিএসকে বাংলাদেশ।

কোম্পানিটি ১৯৭৬ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২৪৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৭ দশমিক শূন্য ৭ ও মাত্র দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ১ হাজার ৫০৫ টাকায় জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১ হাজার ৯০০ টাকা ও সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০৫ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here