এনার্জিপ্যাক পাওয়ার তুলবে ১৫০ কোটি টাকা

1
1666

ডেস্ক রিপোর্ট : বুকবিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (ইপিজিএল)। আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি। উত্তোলিত অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হবে কোম্পানির এলপি গ্যাস ব্যবসার সক্ষমতা বাড়াতে।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত আইপিওর রোড শোতে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোড শোতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থার বিভিন্ন তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

রোড শোতে জানানো হয়, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন খুলনার দাকোপে একটি এলপিজি প্ল্যান্ট করেছে। ইতোমধ্যে এতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা জি গ্যাস নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্ল্যান্টে এলপিজি সংরক্ষণ ও বোতলজাত করার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিপুল বিনিয়োগ দরকার। অর্থের এই চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে।

রোড শোতে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ বলেন, তারা আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবেন। এর মধ্য থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে। আর প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে। বাকী অর্থ আইপিও প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে এনার্জির ছোট ছোট পণ্য নিয়ে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ এই যাত্রায় আজ বিভিন্ন পণ্য যুক্ত হয়ে এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান কাজ হলো দেশের সব পর্যায়ের মানুষের এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করা। সেটা হোক বিদ্যৎ কিংবা গ্যাসে। তবে মানুষের দোরগড়ায় এধনের সেবা পৌঁছাতে হলে এখাতে প্রচুর বিনিয়োগ হতে হবে। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন বাসা বাড়িতে গ্যাস পৌছাতে ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে ৫ লাখ সিলিন্ডার আসছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মূলত স্টোরেজ এবং পরিবহন সমস্যার সমাধান করতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলছি। আমাদের ১৬টি লাইসেন্স রয়েছে। এগুলো সফলভাবে চালাতে হলে এখানে অনেক বিনিয়োগ দরকার। আমি বিশ্বাস করি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন আপনাদের বিনিয়োগে আস্থা রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রেজওয়ানুল কবির বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এলপিজি প্রকল্পকে শক্তিশালী করা। কারণ দেশে এলপিজির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। প্রতি বছর এই খাতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই চাহিদাকে মাথায় রেখে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।।

Energypac-group-1.jpg
রোডশো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা

এসময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করা নানা প্রশ্নের জবাব দেন কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উর্ধতন কর্মকর্তারা। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়েছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আর রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যুর দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

রোড শোতে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের চেয়ারম্যান রবিউল আলম, পরিচালক রেজোয়ানুল হক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আমিনুর রহমান খান বক্তব্য রাখেন। এ সময় কোম্পানির পরিচালক এনামুল হক চৌধুরী, নুরুল আক্তার,  স্বতন্ত্র পরিচালক ড. মোহাম্মদ তামিম ও আতিক-ই রাব্বানি, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান জাবেদ চৌধুরী, এনার্জিপ্যাকের কোম্পানি সচিব  মোঃ আলাউদ্দিন শিবলি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আইপিও’র রেড হেরিং প্রসপেক্টাস অনুসারে, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি প্রস্তুত ও সেবা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি কোম্পানিটি একাধিক স্বতন্ত্র পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে থাকে।

এছাড়া কোম্পানিটির অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে-ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন বিভাগ, মটর ভেহিক্যাল বিভাগ,  কনস্ট্রাকশন মেশিনারিজ ও ম্যাটেরিয়াল বিভাগ, এগ্রো মেশিনারিজ ডিভিশন, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশন, এলপিজি ডিভিশন ইত্যাদি। প্রতিটি বিভাগে কোম্পানিটি ভালো পারফর্ম করছে। রাজস্ব আয় তথা পণ্য ও সেবা বিক্রির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

২০১৬-১৭ হিসাববছরে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা, আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১৬-১৭ হিসাববছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০ কোটি টাকা হয়েছে।  এ সময়ে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ৩ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ১ টাকা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here