এনার্জিপ্যাকের আইপিও নিয়ে আশঙ্কা

0
3721
শাহীনুর ইসলাম : এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডকে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাবলিক ইস্যু বিধিমালা সংশোধনের পরও পুরনো আইনে আইপিও অনুমোদন দেয়ায় নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি বিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিএসইসির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও কোম্পানি বা এর ইস্যু ব্যবস্থাপককে লিখিতভাবে আইপিও অনুমোদনের বিষয়টি জানায়নি কমিশন। এমন পরিস্থিতিতে আইপিও অনুমোদন পুনঃপর্যালোচনা করা হতে পারে। বিএসইসির বিশেষ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএসইসির জ্যেষ্ঠেএক কর্মকর্তা বলেন, পাবলিক ইস্যু বিধিমালা সংশোধনীর গেজেট প্রকাশের পর পুরনো আইনে এনার্জিপ্যাককে আইপিও অনুমোদন দেয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে কোম্পানিকে নতুন করেই আইপিও আবেদন করতে হবে। এতে ৪-৫ মাস সময় লেগে যাবে।
তিনি আরো বলেন, তবে কমিশন চাইলে কোম্পানিটির জন্য বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে পুরনো আইনেই আইপিও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে একটি কোম্পানির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না।
সূত্র জানায়, ২৮ ডিসেম্বর কমিশন সভায় সংশোধিত পাবলিক ইস্যু বিধিমালা চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। এর পর ৩১ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশ পূর্বক তা কার্যকর হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, আইপিওতে কোনো কোম্পানি প্রিমিয়াম চাইলে তাদের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে হবে। আর স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে শুধু অভিহিত মূল্যে শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেয়া যাবে।
তবে গত ৫ জানুয়ারি পুরনো বিধিমালার অধীনে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডকে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামে শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেয় বিএসইসি। এর পর দেড় মাস পার হলেও কোম্পানি বা এর ইস্যু ব্যবস্থাপককে আইপিও অনুমোদনের বিষয়ে লিখিত কোনো সম্মতিপত্র দেয়া হয়নি। তিন বছর আগে একবার বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহের অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করে কমিশন।
এদিকে পাবলিক ইস্যু বিধিমালার সংশোধনী কার্যকরের পর আগের আইনে এনার্জিপ্যাকের আইপিও অনুমোদন দেয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। তবে কমিশন সূত্র জানায়, পাবলিক ইস্যু বিধিমালা সংশোধনের গেজেট হলেও এর আনুষ্ঠানিক কপি কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে আসে ৫ জানুয়ারি বিকালে। এরই মধ্যে কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গেজেট হাতে পাওয়ার পর পুরনো আইনে আইপিও অনুমোদনের বিষয়ে লিখিত সম্মতিপত্র প্রদান থেকে বিরত থাকে কমিশন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্বিধায় ফেলেছে।
কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ অবস্থায় এনার্জিপ্যাকের আইপিও অনুমোদন বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এক্ষেত্রে সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটিকে আবারো আইপিও আবেদনের প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রিমিয়াম চাইলে কোম্পানিটিকে অবশ্যই বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হবে।
কর্মকর্তারা আরো জানান, নতুন বিধিমালাটি কার্যকরের আগে আইপিও অনুমোদন-সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ায় এনার্জিপ্যাকের মতো আরো চার কোম্পানিকেও পুরনো আইনের অধীনে আইপিও অনুমোদন দেয়ার পরিকল্পনা ছিল কমিশনের। তবে কমিশন ওই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। সে কোম্পানিগুলোকে নতুন করে আইপিও আবেদনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পেছনের খবর : এনার্জিপ্যাকের আইপিও ‘আবেদন ফেব্রুয়ারির শেষে’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here