২১৮ কোটি টাকা উত্তোলনে আইপিওতে আসছে এনার্জিপ্যাক

0
3737

শাহীনুর ইসলাম : এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড পুরনো নিয়মে নয়; নতুন নিয়মে আসছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ কমিশনে আবেদনপত্র নতুন রুপে জমাও দেয়া হয়েছে। দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ এখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করলে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে রোববার এই তথ্য জানা গেছে। বিএসইসির বিশেষ সূত্র জানায়, আইপিওতে ৪৮ টাকা দরে মোট ২১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন করবে এনার্জিপ্যাক।

আইপিও সম্পর্কে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার কোম্পানির সচিব গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ইতোমধ্যে কোম্পানি রোডশো সম্পন্ন করে শেয়ারের মূল্য (ইন্ডিকেটিভ দর) ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে প্রাপ্ত ট্‍াকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। টার্নওভার কমার কারণ সম্পর্কে ‘ইপিসি কন্টাক্ট না থাকায় ২০১২ সালে বিক্রয় বা টার্নওভারের পরিমাণ কমেছে’ বলে জানান গোপাল চন্দ্র দেবনাথ।

ইস্যু ব্যবস্থাপক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের উর্ধতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার টেলিফোনে বলেন, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রথমবারে অনুমোদন পেলেও নিয়ন্ত্রণ কমিশন নতুন রুপে আইন সংস্কার করলে আইপিও আটকা পড়ে।

পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নতুন রুপে ১৭ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ইস্যু-ম্যানেজার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস এবং এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডকে চিঠি পাঠিয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নতুন রুপে আবেদন করেছি। আমরা আশা করছি, নিয়ন্ত্রণ কমিশন এখন টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেবে। পুঁজিবাজারে যুক্ত হলে কোম্পানিটির অনেক ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

বিএসইসি জানায়, ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর স্থির মূল্য পদ্ধতিতে পাবলিক ইস্যু রুলস-২০০৬ মেনে আবেদন করে কোম্পানিটি। তবে আইপিও অনুমোদনের আগে পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ প্রণীত হয়। বিএসইসির পুরান নিয়ম বাতিল হওয়ায় কোম্পানিকে পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আসতে হবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে।

জানা গেছে, ১১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূলধনের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন এর আগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ৩৪ টাকা প্রিমিয়ামে প্লেসমেন্টে শেয়ার ছেড়েছে। তবে আইপিওতে ৩৮ টাকা প্রিমিয়ামে আসার আবেদন করেছে।

আইপিওতে ৪৮ টাকা দরে মোট ২১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন করবে এনার্জিপ্যাক। যার ৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এলপিজি স্টোরেজ, ৯২ কোটি ১০ লাখ টাকা কনডেনসেট প্ল্যান্ট, ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ ও বাকি ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আইপিওতে ব্যয় করা হবে বলে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১০ সালের ১৫৬ কোটি টাকার টার্নওভার বা বিক্রয় ২০১১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায়। তবে ২০১২ সালে কমে দাঁড়ায় ৫০২ কোটিতে। ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ ও ১৩ সালে বিক্রয় কমলেও কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে বলে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরতে শুরু করেছে। ২০১১ সালে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ইপিএস ৩.৮৮ টাকা, ২০১২ সালে হয়েছে ৫৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ইপিএস ৫.০৮ টাকা ও ২০১৩ সালে হয়েছে ৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ইপিএস ৫.৪৮ টাকা করে।

মুনাফায় ফেরার পর কোম্পানিটি আইপিওতে আসার জন্য ২০১২ সালের ২২ অক্টোবরে আবেদন করেছে। তবে এ কোম্পানির রিটার্ন অন ইক্যুইটির (ইক্যুইটির তুলনায় মুনাফা) হার অনেকাংশে কম।

সর্বশেষ অর্থবছরে পরিশোধিত মূলধনের ক্ষেত্রে মুনাফা ৫৪.৮ শতাংশ হলেও রিটার্ন অন ইক্যুইটির হার ১৯.৬৪ শতাংশ। কোম্পানিটিতে মোট ইক্যুইটির পরিমাণ (মূলধন+রিজার্ভ) ৩৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার ১৯৯৫ সালের ১৫ জুলাই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর পর ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।

পেছনের খবর : ‘নতুন নিয়মে আসছে’ এনার্জিপ্যাকের আইপিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here