এটলাস বাংলাদেশের নতুন এসেম্বিলি লাইন শিগগিরই উদ্বোধনের আভাস

0
569

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড গত চার বছর ধরে প্রফিট করতে পাচ্ছে না। তবে আশার কথা হচ্ছে আগামী ২/১ বছরের মধ্যে এ চিত্র পাল্টে যেতে পারে। মুনাফার মুখ দেখতে পারে কোম্পানিটি।আধা সরকারি সায়ত্বশাসিত কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশ জংশন মোটরসাইকেল উৎপাদন করতো। কিন্তু দিনকে দিন এই মোটরসাইকেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। লসে পড়ে যায় কোম্পানিটি। লস থেকে মুনাফায় ফিরে আসতে কোম্পানিটি যথাযথ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ১৯৯০ সালের পুরাতন এসেম্বিলি লাইন ভেঙ্গে দিয়ে নতুন এসেম্বিলি লাইন নির্মাণ করছে কোম্পানিটি। যেখানে চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত এটলাস টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন হবে। সম্প্রতি রাজধানীর টঙ্গীতে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের অফিস ও কারখানা ভিজিট করে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, এটলাস বাংলাদেশ গত বছর ৩ হাজার ৭৭টি জংসন মোটরসাইকেল উৎপাদন করেছিল। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত উৎপাদন করেছে ১৫’শ থেকে ১৬’শ মোটরসাইকেল। যা চাহিদার তুলনায় খুবই নগন্য। মূলত পূর্বের এসেম্বিলি লাইন দিয়ে এর বেশি উৎপাদন করাও যায় না। চাহিদা ও মুনাফার কথা চিন্তা করে কোম্পানিটি নতুন এসেম্বিলি লাইন নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু মেশিনারিজ বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। মেশিনারিজ বসানো হলে আগামী ২০ অক্টোবর উদ্বোধন হতে পারে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন এসেম্বিলি লাইন।

আরও জানা যায়, গত বছরের ২৪ মে টিভিএস এর সঙ্গে এটলাস বাংলাদেশের এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ বছরের জন্য দুই কোম্পানির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে এটলাস বাংলাদেশ। টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন করে এটলাস টিভিএস নামকরণে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে  মোটরসাইকেল সরবরাহ করবে এটলাস বাংলাদেশ। বছরে ৩০ হাজার মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে এটলাস বাংলাদেশ। এর মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ৭ হাজার মোটরসাইকেল রেখে অতিরিক্ত মোটরসাইকেলগুলো টিভিএস কে দিয়ে দেবে এটলাস বাংলাদেশ। অবশ্য অতিরিক্ত প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য এটলাস বাংলাদেশকে টিভিএস অর্থপ্রদান করবে। টিভিএস কোম্পানি মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন মেশিনারিজ এটলাস বাংলাদেশের কাছে সরবরাহ করবে। খুব সহজ শর্তে এই টাকা পরিশোধ করতে পারবে এটলাস বাংলাদেশ।

সরেজমিনে জানা যায়, এটলাস বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছে। এরমধ্যে কর্মচারি ও শ্রমিক সংখ্যা ৯৫ জন। শ্রমিকদের তেমন কাজ থাকে না। বলতে গেলে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন শ্রমিকরা। এখন নতুন এসেম্বিলি লাইন তৈরি হলে শ্রমিকদের কাজে লাগানো যাবে। ৭ হাজার মোটরসাইকেল সরবরাহ করতে পারলেই খুব দ্রুতই মুনাফায় ফিরতে পারবে কোম্পানিটি।

ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, ১০০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনী কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৩ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৪০ টাকা। গত ৫২ সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ওঠানামা করেছে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৫৩ টাকা ১০ পয়সায়।

সূত্রমতে, এটলাস বাংলাদেশ ২০১৭ সালে ২ শতাংশ ক্যাশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এবং ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। পুঁজিবাজারে ১৯৮৮ সালে তালিকাভূক্ত হওয়া কোম্পানিটি বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ১০৮টি। এরমধ্যে সরকারের শেয়ার রয়েছে ৫১ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here