এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙ্গা গ্রামীণ অর্থনীতি

0
396

সিনিয়র রিপোর্টার : শাখা নেই অথচ চলছে ব্যাংকিং লেনদেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকের শাখাগুলো চালাতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এজেন্ট ব্যাংকিং শুরুর পরে অল্প সময়েই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০টি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কারণে অবৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমছে। পাশাপাশি গ্রামীণ আর্থ-সামাজিকতায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ করছে ১৫টি ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয় ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন হাজার ১৪৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। রেমিট্যান্স বিতরণের শীর্ষে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়া ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ রেমিট্যান্স বিতরণকারী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবুল বশর বলেন, ব্যাংকের শাখার মতোই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলো তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে ও দ্রুততম সময়ে এ সেবা দিচ্ছে। যেসব জায়গায় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানকার মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং প্রয়োজন মিটাতে পারছে।

সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো তাদের মোবাইলে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচ্ছে। ফলে তাদের বিশ্বাস বাড়ছে। এতে এ ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং এ ব্যাংকগুলোর তেমন খরচ নেই। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের এজেন্টকেই সব খরচ বহন করতে হয়। এ জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং হলো সমঝোতা স্মারকে চুক্তির বিপরীতে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেয়া। এখন পর্যন্ত ডাচ্-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, আল আরাফাহ, সোস্যাল ইসলামী, মধুমতি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল, স্ট্যান্ডার্ড, অগ্রণী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, মিডল্যান্ড, দি সিটি, ইসলামী, প্রিমিয়ার, ইউসিবি, এবি ও এনআরবি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে।

সূত্র জানায়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে সাশ্রয়ী খরচে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম শুরু করে ১৭টি ব্যাংক।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা, আমানত রাখা, ঋণ গ্রহণ, রেমিট্যান্স পাঠানো ও সংগ্রহ সবই করা যাচ্ছে। এ খাতে ৫ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৭টি ব্যাংক ৩ হাজার ৫৮৮টি এজেন্ট নিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭৭টিই গ্রামে। এজেন্টের অধীনে আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ ৮ হাজার ৯৩৯টি পয়েন্ট থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যাচ্ছে।

এসব এজেন্ট পয়েন্টে খোলা হিসাবগুলোয় গ্রাহকরা ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আমানত রেখেছে। প্রতি অ্যাকাউন্টে গড়ে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার ৩২৪ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণও বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া।

জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা ১৩৭ কোটি টাকার ১২৯ কোটি টাকা দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। তবে ১৭টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করলেও এর মাধ্যমে ঋণ দিচ্ছে মাত্র ৬টি ব্যাংক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here