পুঁজিবাজারে এক সপ্তাহে ৭৬ হাজার বিও হিসাব বন্ধ

0
401

নানা প্রতিকূলতায় গত এক সপ্তাহে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ৭৬ হাজার ১৪৪ বিনিয়োগকারী। ২০১২-১৩ অর্থবছরের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব নবায়ন না করায় বন্ধ হয়ে গেছে এসব হিসাব। ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানান। তাদের বক্তব্য, এতে পুঁজিবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১০ সালে অনেক বিনিয়োগকারী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিও হিসাব খুলেছিলেন। বিও হিসাব সক্রিয় রাখার জন্য প্রতিটি বিও হিসাবের বিপরীতে ৫শ’ টাকা ফি দিতে হতো সিডিবিএলকে। একারণে অনেকেই এখন সেই সব হিসাব নবায়ন না করায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটারি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুন পুঁজিবাজারে ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৮টি বিও হিসাব সক্রিয় ছিল। ৬ জুলাই এসে সক্রিয় বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৮৮       হাজার ১১৪টি। এ সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৭৬ হাজার ১৪৪টি বিও হিসাব। ২৯ জুন পুঁজিবাজারে পুরুষদের বিও হিসাব ছিল ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৫টি, মহিলাদের বিও হিসাব ছিল ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৭টি এবং কোম্পানির হিসাব ছিল ৯ হাজার ৬০৬টি। মোট বিওর মধ্যে দেশীয় বিনিয়োগকারীর ছিল ২৫ লাখ ১৭ হাজার ৪৬৩টি, প্রবাসী বাংলাদেশীর হিসাব ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৮৯টি এবং কোম্পানির হিসাব ছিল ৯ হাজার ৬০৬টি।

জুলাই ৬ তারিখে এসে পুঁজিবাজারে মোট সক্রিয় বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪টি। এরমধ্যে পুরুষ হিসাবধারীর সংখ্যা ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৩৯টি, মহিলা হিসাবধারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪টি এবং কোম্পানির হিসাব সক্রিয় ছিল ৯ হাজার ৪৮১টি। মোট বিও হিসাবের মধ্যে দেশীয় হিসাবধারীর ছিল ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৮টি, প্রবাসী বাংলাদেশীর হিসাব সক্রিয় ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫টি। এ সময়ের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হিসাব বন্ধ হয়েছে ৪ হাজার ২৮৪টি। বিভিন্ন কোম্পানির সক্রিয় বিও হিসাব রয়েছে ৯ হাজার ৫০৯টি। এ বিষয়ে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বিও হিসাব বন্ধ হলেও বাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু নয়। নবায়ন ফি না দেয়ার কারণে এসব বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে।  বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিও হিসাব বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতাটি ব্রোকার হাউসগুলোতে বেশি। বাজার যখন ভালো ছিল তখন অনেক বিনিয়োগকারী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিও হিসাব খুলেছিলেন। ২০১০ সালের পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজার স্থিতিশীল বা ঊর্ধ্বমুখী না হওয়ায় এখন অনেক বিনিয়োগকারী তাদের অপ্রয়োজনীয় বিও হিসাবে নবায়ন ফি দিচ্ছেন না। এতেই মূলত এগুলো বন্ধ হচ্ছে।