এক দশকে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১১৮ শতাংশ

0
543

এসবি ডেস্ক : ১০ বছরে দেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থার পরিচালিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ৭০৪-এ উন্নীত হয়েছে। ২০০৩ সালের শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ৩৭ লাখ ৮ হাজার। এ হিসাবে ১০ বছরে অর্থনীতির আকার বেড়েছে ১১৮ শতাংশ।

রোববার পরিসংখ্যান ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক শুমারির ফল বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত ফল থেকে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে শুমারির চূড়ান্ত ফল জানা যাবে বলেও জানানো হয় সভায়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সচিব নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা প্রধান জায়েদ বখত ও বিবিএস মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন। তিনি জানান, ১৯৮৬ সালের শুমারিতে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১৯। ১৯৮৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৭১ শতাংশ হারে। আর সর্বশেষ ১০ বছরে তা বেড়েছে ১১৮ শতাংশ হারে।

মসিউর রহমান বলেন, চলমান অর্থনৈতিক শুমারি দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক গতিধারা নিরূপণে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এর মাধ্যমে ১০ বছরে আমাদের অ-কৃষি খাতের বিকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পল্লী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ৭২ শতাংশ পল্লী এলাকায় গড়ে উঠেছে। এক দশকে গ্রাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১ ভাগ হারে। সরকারের পল্লী উন্নয়ন নীতির ইতিবাচক ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এফবিসিসিআই বলে, বর্তমান সরকার যে বাজেট দিয়েছে তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে।

সক্ষমতা না থাকলে সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট দিত না। সরকারের গতিশীলতা ও সক্ষমতার ওপর নির্ভরতা থাকতে হবে। বর্তমানে চলমান অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ধারা অব্যাহত থাকলে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যআয়ের কোটা ছাড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম। বিবিএস সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক শুমারি-২০১৩ এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। সারা দেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারির প্রথম পর্ব শহর এলাকায় ২০০১ সালে এবং দ্বিতীয় পর্ব পল্লী এলাকায় ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here