একীভূত হবে স্কয়ার টেক্সটাইলস, চাপের মূখে কমেছে মুনাফা

0
1471

সিনিয়র রিপোর্টার : বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিক্রি কমায় চাপের মুখে রয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড। কোম্পানিটির নিট মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় কমেছে ৪৪ শতাংশ। অবশ্য প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বড় সম্প্রসারণ প্রকল্পের পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ইয়ার্নসকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি।

একইসঙ্গে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত বর্তমান কারখানায় ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তাদের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। উৎপাদনে ফিরতে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, সুলভ মূল্যে কাঁচা তুলার অপ্রাপ্যতা, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য, বিদেশী ক্রেতাদের শর্তানুসারে কারখানার আধুনিকায়ন ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির চাপে স্কয়ার টেক্সটাইলসের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবে কমেছে নিট মুনাফা। তবে বস্ত্র খাতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কোম্পানির পর্ষদ বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ইয়ার্নসকে একীভূত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানি উপকৃত হবে বলে মনে করছেন তারা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে স্কয়ার টেক্সটাইলসের আর্থিক ব্যয় ১৩৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ফুয়েল, পেট্রল ও ডিজেল বাবদ ব্যয় ১৬১ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। এসবের প্রভাবে বছর শেষে ফ্যাক্টরি ওভারহেড বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে স্কয়ার টেক্সটাইলসের বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৭৭৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে গ্রস মুনাফা ৩২ দশমিক ৭৬ ও পরিচালন মুনাফা ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ৪১ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০১৬-১৭ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৪ টাকা ১৪ পয়সা।

কোম্পানিটির সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত বর্তমান কারখানায় ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তাদের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কোম্পানির বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৫১০ টন বেড়ে ৩৯ হাজার ৪৪৪ টনে দাঁড়াবে। বার্ষিক বিক্রি বাড়বে ৯৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। সেই সঙ্গে মুনাফা হবে টার্নওভারের ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

২০১৮ সালের মের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রসারণ প্রকল্পের পাশাপাশি কারখানার নিয়মিত সংস্কার ও আধুনিকায়নে চলতি বছর বিএমআরই ও জমি কেনা বাদ আরো ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

অন্যদিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য স্কয়ার টেক্সটাইলস তাদের সাবসিডিয়ারি স্কয়ার ইয়ার্নস লিমিটেডকে একীভূত করবে। একই ধরনের পণ্য সুতা উৎপাদনের কারণে স্কয়ার টেক্সটাইলসের সঙ্গে স্কয়ার ইয়ার্নসকে একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোম্পানিটিতে স্কয়ার টেক্সটাইলসের ৯৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

একীভূতকরণ স্কিমের আওতায় স্কয়ার টেক্সটাইলস স্কয়ার ইয়ার্নসের অবশিষ্ট দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার কিনে সব শেয়ার বিলুপ্ত করে দেবে। এ কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা বাড়বে না। এরই মধ্যে ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় একীভূতকরণ স্কিম অনুমোদন করেছেন স্কয়ার টেক্সটাইলস শেয়ারহোল্ডাররা। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের অনুমোদন পেলেই একীভূতকরণ স্কিম কার্যকর করবে কোম্পানিটি।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ  ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইলস। ২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৫৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১৯ দশমিক ৪৯, বিদেশী ৬ দশমিক ৭৩ ও বাকি ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here