একমির অতিমূল্যায়িত দরে ‘সম্ভাবনা নয়-আশঙ্কা রয়েছে’

0
3028

শাহীনুর ইসলাম : একমি ল্যাবরেটরিজের ‘কাট অফ প্রাইস হিসাবে ৮৫ টাকা ২০ পয়সা দর নির্ধারণ,  মার্কেটে এটা অনেক হাই। দর যা করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। যে কারণে এই দর ধরে রাখতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে।’ সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন দেশের শীর্ষস্থান দখলকারী একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের সিইও।

একমির শেয়ার দরে ‘সম্ভাবনা নয়-আশঙ্কা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতিতে আরো চারটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হোক, লেনদেন শুরু করুক। তখন বোঝা যাবে- একমির দর কে কতোটা ধরে রাখতে পারে। কারণ, আমরাও মার্কেটে আছি। কিছুটা হলেও মার্কেট ধারণা আমাদেরও রয়েছে।

IMG0382Aতিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, একমি ভালো কোম্পানি, সন্দেহ নেই। তবে কাট অফ প্রাইস হিসাবে ৮৫ টাকা এটা অনেক হাই হয়েছে। কিভাবে বাড়ানো হলো- তা কথা নয়। তবে বর্তমানে মার্কেট পলিসি অনুযায়ী এই দর টেকানো কঠিন হবে।

‘আমরাও অনেক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে সহযোগীতা করেছি। কোন কোম্পানির কি পরিমাণ সম্পদ আছে- আমরা জানি। প্রতিযোগীতায় কোম্পানির সে ডিমান্ড অনুযায়ী আমরা সহযোগীতার চেষ্টা করি। তবে ১৭ কে ২০ করে নয়। ১৭ কে সর্বোচ্চ ১৮ করা যায়; কিন্তু ২০ করা যায় না -বলেন সিইও।

একমির দরে ‘আশঙ্কা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজারের যে অবস্থা, সেখানে আমাদের আস্থার স্থলটা ঠিক রাখতে হবে। অসুস্থ্য প্রতিযোগীতায় আস্থার শেষ অবস্থানটাও যদি নষ্ট করি, তাহলে দাঁড়াব কোথায়?

শুধু আজ নয়; কাল আপনি বাজারে থাকবেন-আমিও থাকবো। ঘুরে ফিরে আমাদের মধ্যেই দেখা হবে, কথা হবে। কিন্তু যে কোম্পানির হয়ে এ কাজ করলাম সে কোথায় থাকবে? আমার স্থান আমি নষ্ট করছি; বুঝেও। কিন্তু এর শাস্তি ভোগ করবে সকলে।

IMG0384Aযে কারণে বলছি, নতুন পদ্ধতিতে আরো চারটি কোম্পানি আজারে আসুক, লেনদেন শুরু করুক। বুঝবেন- দরে অতি মূল্যায়ন হয়েছে কি-না। তবে এই ধাক্কা লাগবে, যখন কোন কোম্পানি ফের বাজারে আসতে চাইবে। তখন যতো ভালো কোম্পানিই আসুক, একমির মতো কাট অফ প্রাইস পাবে না।

তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, গেজেটে উল্লেখ করা রয়েছে। রোডশোতে দর যাই হোক- শেয়ার একমিকে ছাড়তে হবে। ২০১২ সালে যে কোম্পানির শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকার জন্য আবেদন করে। তার দর উঠেছে ৮৫ টাকা!

000তিনি বলেন, গেজেট অনুযায়ী কোম্পানি ৮৫ টাকায় নয়; ৩০ টাকায় শেয়ার বিক্রি করতেও বাধ্য। তবে যে শেয়ারের মূল্য ৩০-৩৫ টাকায় হওয়ার যোগ্য তা ৮৫ টাকা হওয়া কতোটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হয়েছে কি-না, সম্প্রতি এমন করা হলে কোম্পানির সেক্রেটারি মি. রফিক বলেন, কীভাবে সম্ভব, শতাধিক কোম্পানি কি প্রভাবিত হয়েছে? না কেউ প্রভাবিত করেছে? এসব প্রশ্ন যারা করেন…। দর অতি মূল্যায়িত নয়, বরং যথার্থ হয়েছে।

লোকে যদি এমন করে ভাবে, তবে ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে কিভাবে -প্রশ্ন রাখেন রফিক!

আইপিও আবেদনের মাধ্যমে কোম্পানিটি ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ৩টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে খরচ করবে। কোম্পানিটি শিগগিরই লটারির ড্র সম্পন্ন করবে।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানিটির বিগত ৫ বছরের নিরীক্ষিত বিররণী অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ০৭ পয়সা। আর ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছর অনুযায়ী ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ৭০ টাকা ৩৭ পয়সা।

পেছনের খবর : একমির আইপিও আবেদন ৩ এপ্রিল থেকে

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here