একমির লেনদেন কত টাকায় হবে? চলছে গুঞ্জন

0
5708

রাহেল আহমেদ শানু : একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে। তবে লেনদেন কত টাকায় হতে পারে? রাজধানীর বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউসে চলছে এমন গুঞ্জন। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। একপক্ষ বলছে লেনদেন ৯০ টাকায় শুরু হবে। আরেক পক্ষ বলছে, ১৪০-৫০ টাকায় শুরু হবে।

DSE News 2016-06-06 10-54-41তবে লেনদেন শেষে শেয়ার দর কোম্পানি তার অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। এই স্থানে এসে দুটি পক্ষই একমত পোষন করেন। একমির শেয়ার লেনদেন কতো টাকায় শুরু হবে, তা নিয়ে বাজারে শুরু শুধুই গুঞ্জন।

গুঞ্জন চলছে, কোম্পানির সাড়ে চার কোটি শেয়ার লেনদেন শুরু মঙ্গলবার। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭০ শতাংশ রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক বা অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আওতায়। বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিপুল পরিমাণের শেয়ার নিয়ে কি গেমলিং হবে? হলে দর ডাবল দিয়ে শুরু।

ইতোমধ্যে গুঞ্জনের কিছু অংশ স্টক বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও ধরা পড়েছে। পাঠক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো। হাবিব নামে এক পাঠক ও বিনিয়োগকারী একমি ল্যবিরেটরিজ নিয়ে স্টক বাংলাদেশ -এর প্রকাশিত প্রতিবেদনের নিচে ১৯ মে প্রশ্ন তুলেছেন, দাম কতো হতে পারে?

দাম কত হতে পারে?

আবদুর রউফ নামে এক পাঠক ও বিনিয়োগকারী লিখেছেন, কয় টাকা দরে শুরু হবে, ৮৫ টাকা বা ৯০ টাকায়? আরেক প্রতিবেদনে তিনি আরো লিখেছেন, একমি কতো টাকায় মার্কেটে আসবে, ৮০ টাকায়?

Koy taka dore suru hobe 85 or 90 takay?

Acme Kato taka kore market a asbe 80 taka ?আব্দুর রউফের বক্তব্যের নিচে সেলিম আহমেদ নামে আরেক বিনিয়োগকারী লিখেছেন, মে বি ১৫০ টাকা।

may be >150/-অণ্যদিকে একমি ‘আইপিওতে আসার আগেই এ্যাকাউাটিং ষ্ট্যান্ডাড লঙ্ঘন’ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন অনেকে। মি. জন লিখেছেন, একমির আইপিও আবেদনে সকল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ‘না’ বলা শ্রেয়। নিচে তুলে ধরা হলো-

  • একমির আইপিও আবেদনে সকল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের “না” বলা শ্রেয়। আজকের দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার ১৭ পৃষ্টায় “আইপিওতে আসার আগেই এ্যাকাউাটিং ষ্ট্যান্ডাড লঙ্ঘন’’ বিষযটি যথার্থ হলে,একমির আইপিও আবেদনে সকল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের “না” বলা শ্রেয়। এ ভাবেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শ্রেয়।
    • ভাই য়ারা বড চেয়ারে বসে টাকা মারছে তাদের ধারার লোক নাই।

    • বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিনে কোম্পানিটি তার আইপিও সম্পাদন করেছে। তবে সাড়ে চার কোটি শেয়ার লেনদেন নিয়ে শুরু হয়েছে নানান কথকতা। রাজধানীর অফিস পাড়ায় রোববারের গুঞ্জন, কোম্পানির যেহেতু ৭০ শতাংশ শেয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণ করেছে, সেজন্য দর বাড়বে। হুহু করে দর বেড়ে দ্বিগুণের বেশি কোঠায় গিয়ে ঠেকবে।
    • বিপরিত পক্ষের যুক্তির কিছু অংশকে সমর্থন দিয়ে আরেকপক্ষ বলছে, দর বাড়াবে আর্থিক প্রতিষ্টানগুলো। কারণ তারা, ৮৫ টাকায় ৭০ ভাগ শেয়ার কিনেছে লাভের আশায়। লাভ করেই দ্রুত কেটে পড়বে। এরপরে লোকসানের ভাগ নেবে সাধারণ বিনিয়োগকারী।
    • একমি ল্যাবরেটরিজের দর নির্ধারণ নিয়ে সোমবার সকালে এমনি অনেক মন্তব্য কানে আসে এ প্রতিবেদকের। কারওয়ান বাজারের দুটি সিকিউরিজ হাউসে একমির লেনদেন নিয়ে জমে ওঠে আড্ডা। সকালে একমির লেনদেনের কথকথার মাঝে এক বিনিয়োগকারী আরেক বিনিয়োগকারী ঠাট্টার ছলে বলে উঠলেন, এতো বোঝ তো কেন কেন?তোমারে কেনতে কইছে কেউ। দর বাড়তে থাকলে হাউমাই করো। শেয়ার কিনে রাখো। আর কমলে ফের হা-হুতাশ করো। আইপিওতে যা পাইছ দু-চার দিন দর দেখে বেচে দেবা। এরপরে ওজু করে মসজিদে গিয়ে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিও।
    • তবে একমির দর নির্ধারণ নিয়ে অনেকটা গেইম হয়েছে, বলেন অনেক মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা। ‘কাট অফ প্রাইস হিসাবে ৮৫ টাকা ২০ পয়সা দর নির্ধারণ,  মার্কেটে এটা অনেক হাই। দর যা করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। যে কারণে এই দর ধরে রাখতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে।’ আশঙ্কা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন দেশের শীর্ষস্থান দখলকারী একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের সিইও।
    • একমির শেয়ার দরে ‘সম্ভাবনা নয়-আশঙ্কা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতিতে আরো চারটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হোক, লেনদেন শুরু করুক। তখন বোঝা যাবে- একমির দর কে কতোটা ধরে রাখতে পারে। কারণ, আমরাও মার্কেটে আছি। কিছুটা হলেও মার্কেট ধারণা আমাদেরও রয়েছে।

IMG0382Aতিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, একমি ভালো কোম্পানি, সন্দেহ নেই। তবে কাট অফ প্রাইস হিসাবে ৮৫ টাকা এটা অনেক হাই হয়েছে। কিভাবে বাড়ানো হলো- তা কথা নয়। তবে বর্তমানে মার্কেট পলিসি অনুযায়ী এই দর টেকানো কঠিন হবে।

‘আমরাও অনেক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে সহযোগীতা করেছি। কোন কোম্পানির কি পরিমাণ সম্পদ আছে- আমরা জানি। প্রতিযোগীতায় কোম্পানির সে ডিমান্ড অনুযায়ী আমরা সহযোগীতার চেষ্টা করি। তবে ১৭ কে ২০ করে নয়। ১৭ কে সর্বোচ্চ ১৮ করা যায়; কিন্তু ২০ করা যায় না -বলেন সিইও।

একমির দরে ‘আশঙ্কা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজারের যে অবস্থা, সেখানে আমাদের আস্থার স্থলটা ঠিক রাখতে হবে। অসুস্থ্য প্রতিযোগীতায় আস্থার শেষ অবস্থানটাও যদি নষ্ট করি, তাহলে দাঁড়াব কোথায়?

শুধু আজ নয়; কাল আপনি বাজারে থাকবেন-আমিও থাকবো। ঘুরে ফিরে আমাদের মধ্যেই দেখা হবে, কথা হবে। কিন্তু যে কোম্পানির হয়ে এ কাজ করলাম সে কোথায় থাকবে? আমার স্থান আমি নষ্ট করছি; বুঝেও। কিন্তু এর শাস্তি ভোগ করবে সকলে।

IMG0384Aযে কারণে বলছি, নতুন পদ্ধতিতে আরো চারটি কোম্পানি আজারে আসুক, লেনদেন শুরু করুক। বুঝবেন- দরে অতি মূল্যায়ন হয়েছে কি-না। তবে এই ধাক্কা লাগবে, যখন কোন কোম্পানি ফের বাজারে আসতে চাইবে। তখন যতো ভালো কোম্পানিই আসুক, একমির মতো কাট অফ প্রাইস পাবে না।

তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, গেজেটে উল্লেখ করা রয়েছে। রোডশোতে দর যাই হোক- শেয়ার একমিকে ছাড়তে হবে। ২০১২ সালে যে কোম্পানির শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকার জন্য আবেদন করে। তার দর উঠেছে ৮৫ টাকা!

000তিনি বলেন, গেজেট অনুযায়ী কোম্পানি ৮৫ টাকায় নয়; ৩০ টাকায় শেয়ার বিক্রি করতেও বাধ্য। তবে যে শেয়ারের মূল্য ৩০-৩৫ টাকায় হওয়ার যোগ্য তা ৮৫ টাকা হওয়া কতোটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হয়েছে কি-না, সম্প্রতি এমন করা হলে কোম্পানির সেক্রেটারি মি. রফিক বলেন, কীভাবে সম্ভব, শতাধিক কোম্পানি কি প্রভাবিত হয়েছে? না কেউ প্রভাবিত করেছে? এসব প্রশ্ন যারা করেন…। দর অতি মূল্যায়িত নয়, বরং যথার্থ হয়েছে।

লোকে যদি এমন করে ভাবে, তবে ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে কিভাবে -প্রশ্ন রাখেন রফিক!

আইপিও আবেদনের মাধ্যমে কোম্পানিটি ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ৩টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে খরচ করবে।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানিটির বিগত ৫ বছরের নিরীক্ষিত বিররণী অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ০৭ পয়সা। আর ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছর অনুযায়ী ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ৭০ টাকা ৩৭ পয়সা।

পেছনের খবর : একমির লটারি ড্র, ফল প্রকাশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here