একমি ল্যাবরেটরিজের বিক্রি বাড়ায় মুনাফা বৃদ্ধি

0
3395

সিনিয়র রিপোর্টার : ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ওষুধ-রসায়ন খাতের কোম্পানি দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারবাজারে আসার পর প্রথম হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৪-১৫ হিসাব বছরে একমির পণ্য বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, যা ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় থাকা ইউনিট থেকে মোট ২৪২ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে। গেল হিসাব বছরে কোম্পানিটির উত্পাদন খরচও কিছুটা কমেছে।

২০১৫-১৬ হিসাব বছরে পণ্য বিক্রির বিপরীতে একমির উত্পাদন খরচ ছিল ৭৭৭ কোটি টাকা, যা মোট বিক্রির ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের বছর উৎপাদন ব্যয় ছিল মোট বিক্রির ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাব বছরে উত্পাদন ব্যয়ের পর কোম্পানির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি। বিক্রয়, বিপণন ও বিতরণে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে একমির মোট ব্যয় হয়েছে ১৮৩ কোটি টাকা।

প্রশাসনিক, সুদ বাবদ ব্যয় ও কর দেয়ার পর কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে একমির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ হিসাব বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৫৫ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৭০ পয়সা।

একমি ল্যাবরেটরিজের কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, ওষুধ বিক্রিতে একমির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গেল হিসাব বছরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় কোম্পানির ব্র্যান্ড ইমেজও বেড়েছে। এটিও বিক্রি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৩০টিরও বেশি দেশে আমাদের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারে রফতানির প্রচেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুতই এতে সফলতা আসবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থে একমি তিনটি নতুন কারখানা করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানায় ২০১৭ সালের শেষার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কোম্পানি, আগামীতে যা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একমি ল্যাবরেটরিজ ফার্মাসিউটিক্যাল, হারবাল, আয়ুর্বেদিক ও ভেটেনারিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাঁচ শতাধিক ওষুধ উত্পাদন করে। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইএসও) সনদ পাওয়া কোম্পানিটির পণ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রফতানি হয়। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৩৭ কোটি টাকার ওষুধ রফতানি করেছে।

এদিকে আইপিও প্রসপেক্টাসে একমি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছিল, তাতে আংশিক পরিবর্তন এসেছে। শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থে স্টেরয়েড অ্যান্ড হরমোন, অনকোলজি এবং আয়ুর্বেদিক, মডার্ন হারবাল ও নিউট্রাসিউটিক্যালস প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল কোম্পানি। তবে সদ্য শেষ হওয়া বার্ষিক সাধারণ সভায় স্টেরয়েড অ্যান্ড হরমোন প্রকল্প রেখে অন্য প্রকল্পগুলো পিছিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয় কোম্পানির পর্ষদ। এর বদলে জীবন রক্ষাকারী পেনিসিলিন প্রকল্প এবং কাঁচামালের আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে আনতে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে একমির একটি পেনিসিলিন ইউনিট রয়েছে, যেখান থেকে বছরে ৪০ কোটি টাকা টার্নওভার আসে। তবে সেটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরামর্শে আলাদা পেনিসিলিন প্লান্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানি। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত এপিআই পার্কে ওষুধের কাঁচামাল তৈরির একটি প্লান্ট করার জন্য একমি এরই মধ্যে তিনটি প্লট বরাদ্দ চেয়েছে।

পেনিসিলিন প্রকল্পে ৪০ কোটি টাকা ও এপিআই প্রকল্পে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর ১৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্টেরয়েড অ্যান্ড হরমোন প্রকল্পে স্থাপনার নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে কোম্পানিটি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উত্পাদনে আসতে পারবে বলে আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

মুনাফা বাড়াতে একমির পরিচালনা পর্ষদ উচ্চ সুদের ঋণ কমিয়ে আনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ১৩৬ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ পরিশোধ করবে। এতে কোম্পানির সুদ বাবদ ব্যয় কমবে। নতুন সব প্রকল্পের কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য আইপিও তহবিলের ৩৫০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানতে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে সুদ পাচ্ছে কোম্পানি।

সর্বশেষ হিসাব বছরে সুদ বাবদ ১১১ কোটি টাকা ব্যয় করে কোম্পানিটি। পরিচালনা পর্ষদ আশা করছে, বড় অংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি স্থায়ী আমানত থেকে আয়ের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে কোম্পানির নিট মুনাফায়।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ওষুধ কোম্পানিটিকে বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় মোট ৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here