একমিতে (আইপিও) তৈরি ফাঁদ!

0
7803

শাহীনুর ইসলাম : একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার লেনদেন মঙ্গলবার সকালে ১৩৫ টাকায় শুরু হয়েছে। লেনদেন শুরুর পর থেকেই কোম্পানির শেয়ার দর কমতে থাকে। তবে শেয়ার হাত বদলের পরিমাণ বেড়েছে। দর না বাড়লে লেনদেন কেন বাড়ছে? তবে এই শেয়ার কিনছে কারা এবং আগামী কি?

একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার হাত বদল নিয়ে বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে স্টক বাংলাদেশের কাছে। প্রতি মিনিটে কয়েক লাখ শেয়ার হাত বদল হচ্ছে। প্রশ্ন, শেয়ারের দর কমছে, তবুও হাত বদলের পরিমাণ বাড়ছে। তবে কারা, কি উদ্দেশ্যে করেছে এবং কিভাবে করছে। আগে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখুন নিচের একটি চিত্র-

Screenshot_4পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সকাল ১০:৩০ মিনিটে ১৩৫ টাকায় লেনদেনে শুরু হয়। ৫ মিনিট পরে (১০: ৩৫) মাত্র ১ মিনিটে শেয়ার হাত বদল হয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার শেয়ার। এরপরে ১ মিনিটে ৪ লাখ ৩০ হাজার, ১০:৩৮ মিনিটে ৫ লাখ ২৯ হাজার শেয়ার হাত বদল হয়। প্রতি মিনিটে লাখো শেয়ারের হাত বদল। মূলত শেয়ারে দর উঠাতেই এই চেষ্টা। অবশেষে ব্যর্থ।

Screenshot_5দুপুরের পরে শেয়ার হাত বদলের পরিমাণ অনেকটা কমে। ১:৩৫ মিনিটে দর কমে হয় ১১৮ টাকা এবং হাত বদলের পরিমাণ হয়েছে মাত্র ৩১ হাজারে।

তবে কারা চেষ্টা করছে এবং কেনই চেষ্টা করছে? উত্তর মিলেয়ে নিন- কোম্পানির রয়েছে সাড়ে চার কোটি শেয়ার।এরমধ্যে ৭০ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর এবং বাকি ৩০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর। ৮৫ টাকায় কেনা শেয়ার ডাবল দামে বিক্রির প্রস্তুতির চিহ্ন এটি।

পুঁজিবাজারে অনেক ফান্ডামেন্টাল কোম্পানি রয়েছে। পুরো এক মাসজুড়ে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বিপুল পরিমাণে হয় না। তা আইপিও শেষে কোম্পানির প্রথম লেনদেনের দিনে বাড়ে। একইভাবে একমির লেনদেনের প্রথম দিন মঙ্গলবার শেয়ারে দর নিয়ে হাত বদরের চিত্র শুভদিক নয়।

তবে শেয়ার কিনছে কারা? ধরে নিই, ক এবং খ দুটি কোম্পানি। দুটি কোম্পানির উদ্দেশ্য হলো লভ্যাংশ তৈরি করে নিজেদের মধ্যে বন্টক করা। এক্ষেত্রে ক কোম্পানি প্রথমে ১ লাখ শেয়ার কেনার অর্ডার দেয় এবং খ একই দামে তা কেনে। তবে এখানে লাভের সূত্র কোথায়?

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সকাল থেকে বাজার দর সৃষ্টিতে ব্যস্ত ছিল এমনি অনেক কোম্পানি। এক্ষেত্রে ১২৫ টাকা দরে ১ লাখ শেয়ার কিনতে খরচ হয় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মাঝখানে ১ লাখ শেয়ার হাত বদলের ট্রেড কমিশন .২৫ পয়সা হিসেবে খরচ পড়ে প্রায় ৩১ হাজার টাকা। তাহলে কি ৩১ হাজার টাকা কোম্পানি লস দিল?

লস নয়। এখানেও লাভ করেছে। মিলিয়ে নিন- গ্যামলিং প্রক্রিয়া কি নিখুঁত! একমির শেয়ার নিয়ে অনেকের লোভ। আপনিও বিগ ভলিউমে ট্রেড দেখে সাধ করে ১২৫ টাকা দরে মাত্র ২৫০ টি শেয়ার কিনেছেন। মিলিয়ে দেখুন দাম কতো?

ধরে নিলাম ৫০০ শেয়ার কিনেছেন, দাম (৩১ হাজার+৩১হাজার) ৬২ হাজার টাকা। আপনি এই শেয়ার কার কাছ থেকে কিনলেন? স্বভাবতই কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে (যেহেতু ৭০ শতাংশ শেয়ার প্রতিষ্ঠানের কাছে)। অতএব, এই টাকা পেল ক বা খ নামে কোন কোম্পানি।

এখন আপনি হিসাব মিলিয়ে দেখুন, যে লেনদেনে (উক্ত ১ লাখ শেয়ার) দেখে প্রলুব্ধ হয়ে ৫০০ শেয়ার কিনলেন, তার পিছনে ক এবং খ -এর কমিশন বাবদ যে ৩১ হাজার টাকা গেছে তা আপনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আপনি আরো ৩১ হাজার টাকা বেশি দিলেন। এই বাড়তি ৩১ হাজার টাকা থেকে ক এবং খ কোম্পানি তাদের বুক বিল্ডিংয়ের ধার্যকৃত শেয়ারপ্রতি ৮৫ টাকা পুষিয়ে নেবে।

সারকথা হলো- আপনার কেনা ৫০০ শেয়ার ক এবং খ কোম্পানির ১ লাখ শেয়ার লেনদেনের যাবতীয় খরচ এবং বিনিয়োগ লভ্যাংশসহ পুষিয়ে দেয়। অতএব আজকের সর্বমোট লেনদেনের .৫ পার্সেন্ট শেয়ার যদি সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রলুব্ধ হয়ে কেনে তাহলে আয়োজকরা চূডান্তভাবে সফল। যদিও এটি একমিকে দিয়ে ব্যাখ্য করা হয়েছে, তবে এটি বর্তমানে আইপিওতে আসা সব কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এমনি ফাঁদ তৈরিই ছিল লাখো ভলিউমে হাত বদলের উদ্দেশ্য। নিচের চিত্রে দেখুন-

Screenshot_6যে কারণে সোমবার ‘একমির লেনদেন কত টাকায় হবে? চলছে গুঞ্জন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়ে। সেখানে আশঙ্কার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার পর সোমবার রাতে নিয়্ত্রণ কমিশনের বৈঠকে বসে। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য মার্জিন ঋণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়।

যে কারণে লোকসান এড়াতে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিয়ন্ত্রণ কমিশন ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় খুব ভালো হয়েছে। একমি কোম্পানির শেয়ার অনেক লোভের সৃষ্টি করবে। যে কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় অনেক বিনিয়োগকারীর পেট বাঁচবে।

আরো খবর : একমির শেয়ার কিনতে সতর্কবার্তা, লেনদেন ১৩৫ টাকায় শুরু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here