শ্যামল রায়ঃ আবু সালেহ মোঃ ইলিয়াস একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেন  ২০০৭/০৮ সাল থেকে। শেয়ার বাজারের উত্থান-পতন দেখেছেন অত্যন্ত কাছ থেকে। এক সময় রয়েল সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতেন। এখন বিনিয়োগ করছেন ইস্টার্ণ সিকিউরিটিজে। শেয়ার বাজারের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বললেন, স্টক বাংলাদেশের সাথে।

এই মুহুর্ত্যে শেয়ার বাজার অত্যন্ত কনফিউজিং আচরণ করছে। কারন দু’দিন বাড়ে তো আবার তিন দিন কমে যায়।  আমরা যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী তারা মার্কেটের আচরণ বুঝতে পারছিনা। সকলেই বলছে শেয়ার মার্কেটের উপর সরকার নজর রাখছে, হয়ত মার্কেট পড়তে দিবে না।  কিন্তু সরকারেরও মাথায় রাখতে হবে , যে এটা যেন শর্টটার্মের জন্য না হয়। মার্কেট যাতে দীর্ঘ মেয়াদে ভাল হয় সে চেষ্টা করতে হবে।

আমরা যারা অন্য কোন উপায় অন্তর না পেয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছি তাদের জন্য একটা স্বাভাবিক মার্কেট দরকার। আসলে-আমাদের  তো খুব বেশী মূলধন নাই, যে একবার লস খেলে তা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। আর অন্য কোণ ব্যবসার সাথে ইনভলব ও হতে পারি না।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করি কারণ এখানে দোকান ভাড়া, কর্মচারী বা অন্যান্য ঝামেলা গুলো থাকে না। কাজেই আমরা যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তারা নিজের  সুবিধার্থে অনেকটা অন্য উপায় খুজে না পেড়ে দু’চার টাকা রোজগারের জন্য শেয়ার ব্যবসায় নেমে পড়ি। অনেকেই হয়ত বুঝে ব্যবসা করে কিন্তু এ মার্কেটে বেশীরভাগ লোক বেচা কেনা করে শুনে শুনেই। আর এই সুযোগটাই নিয়ে নেয় গ্যাম্বলাররা।

যদিও অনেকে মনে করেন “গ্যাম্বলার ইজ দ্য বিউটি অফ শেয়ার মার্কেট”। কিন্তু কথাটা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গ্যাম্বলার না থাকলে অবশ্য মার্কেটে শেয়ারের দাম কমা বাড়া করবেনা। কিন্তু এই কমা বাড়ার মাঝখানে আমাদের  মত যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী  পড়ে যায়, তাদের  হয়ত  সারা জীবনের  সর্বনাশ হয়ে যায়।  কাজেই শেয়ার মার্কেট একটি স্পর্শকাতর জায়গা এখানে বিনিয়োগ করতে হবে  বুঝে শুনে আর মার্কেট ম্যানিপুলেশন থাকলেও সেটার যেন একটা নিয়ম থাকে, যার দেখভালের দায়িত্ব ডিএসই সিএসই এবং বিএসইর। যাতে গ্যাম্বালাররা অতিমাত্রায় ফাউল করতে না পারে সেটা দেখার দায়িত্ব নিশ্চয়ই সারভিলেন্স টিমের।

আর আমাদের মত বিনিয়োগকারীদেরও কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার।  যেমন সব টাকা একবারেই বিনিয়োগ না করে সেটাকে কয়েক ভাগে ভাগ করে বিনিয়োগ করে আপদকালীন সময়ের জন্য কিছু টাকা পোর্টফোলিওতে ফেলে রাখা দরকার। তাতে করে হয়ত আমরা বড় লসের হাত থেকে রক্ষা পাব।

আমি নিজে একটা কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখার চেষ্টা করি। কোম্পানির আয় ইপিএস কি রকম। ডিভিডেন্ট দেয় কি রকম। ফ্যান্ডামেন্টাল জাসটিফাই করে, টেকনিক্যাল গ্রাফগুলো দেখার  চেষ্টা করি। এতে করে অনেক  হেল্প হয় আমার।

1 COMMENT

Khorshed শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here