ঋণ পরিশোধে ৬ মাসের সময় পেল প্যাসিফিক ডেনিমস

0
458

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে তিন মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরিপালন করেনি প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড। ঋণগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সময় নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করায় তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরীক্ষা কার্যক্রমের মধ্যেই ঋণ পরিশোধে ছয় মাস সময়ের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন বিএসইসির কাছে আবেদন করতে চায় প্যাসিফিক ডেনিমস।

প্যাসিফিক ডেনিমসের কোম্পানি সচিব মো. সোরাব আলী বলেন, আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা, তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনসিসি ব্যাংককে ৫ কোটিসহ মোট ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এনসিসি ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা বাকি রয়েছে। এজন্য আমরা ছয় মাস সময় চাইছি। আগামীকাল অনুষ্ঠেয় এজিএমে ব্যাংকঋণ পরিশোধের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন চাওয়া হবে। তাদের অনুমোদন পেলে এ বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন নেয়া হবে।

জানা যায়, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহের তিন মাসের মধ্যেই ২৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই ব্যাংক ও তিন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এনওসি নিয়েছিল প্যাসিফিক ডেনিমস।

আইপিও প্রসপেক্টাসেও শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ২৫ কোটি টাকায় দুটি ব্যাংক ও তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছিল তারা। কিন্তু চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি আইপিওর অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার তিন মাস অর্থাৎ ৭ মের মধ্যে এনসিসি ব্যাংককে ২ কোটি, অগ্রণী ব্যাংককে ৫ কোটি এবং তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি, আইআইডিএফসি ও ফার্স্ট ফিন্যান্সকে ১ কোটি করে ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে কোম্পানিটি আইপিওর অর্থে ১০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করে। পরবর্তীতে অগ্রণী ব্যাংককে আরো ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

এর আগে আইপিওর তহবিল ব্যবহার পরিকল্পনা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনসিসি ব্যাংকের ১০ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংকের ৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ না করায় প্যাসিফিক ডেনিমসের বিরুদ্ধে বিএসইসির কাছে অভিযোগ করে ব্যাংক দুটি। এর বাইরে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজম মহসিনের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ঋণের টাকা আদায়ে বিএসইসির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয় সোনালী ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্যাসিফিক ডেনিমসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ৬১১তম কমিশন সভায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্সকে দিয়ে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুই মাস ধরে চালানো বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি। আর এরই মধ্যে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ছয় মাস সময় চেয়েছে প্যাসিফিক ডেনিমস।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে প্যাসিফিক ডেনিমসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৬৮ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৭ টাকা ২০ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সাড়ে  ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানির পর্ষদ।

লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল ১০টায় অনুমোদিত মূলধন ১২০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি টাকা। রিজার্ভ ৬৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২২ দশমিক শূন্য ৫, বিদেশী শূন্য দশমিক শূন্য ২ ও বাকি ৪৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ ১৯ টাকা ৩০ পয়সায় প্যাসিফিক ডেনিমসের শেয়ার হাতবদল হয়। তালিকাভুক্তির পর এর সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৩৫ টাকা ও সর্বনিম্ন ২১ টাকা ২০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here