ঋণ না পেলে উড়বে না ইউনাইটেড এয়ার

0
1541

স্টাফ রিপোর্টার : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র উড়োজাহাজ কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ লিমিটেড। পূনরায় কার্যক্রম চালু করতে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে নতুন করে ছয়টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা ভেস্তে গেছে।

বন্ডের মাধ্যমে চলতি মূলধনও সংগ্রহ করতে পারেনি কোম্পানিটি। ফলে নতুন করে ফ্লাইট কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ না পেলে কোম্পানি চালু হবে না।

২০০৭ সালের জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বাণিজিক কার্যক্রম শুরু করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। ২০১২ সালে দেশি-বিদেশি মোট ৩৬টি রুটে ইউনাইটেডের ফ্লাইট কার্যক্রম চালু ছিল। বেবিচকের সঙ্গে বিবাদের কারণে ২০১৪ সাল থেকেই ইউনাইটেড এয়ারের উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড হতে থাকে।

২০১৫ সালের শেষ দিকে সচল উড়োজাহাজের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। আর ২০১৬ সালের ৫ মার্চ থেকে ইউনাইটেড এয়ারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যান।

এমন পরিস্থিতিতে ২০১৬ সালে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবারও চালুর উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে বেবিচক অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় সে প্রক্রিয়াও থমকে গেছে।

২০১৬ সালের ১ জুন নতুন করে সাতটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০১ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দেয়। এজন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াভিত্তিক তিন কোম্পানির বিমান সরবরাহের বিপরীতে অভিহিত মূল্যে ১০ টাকা দরে মোট ৪০ কোটি শেয়ার নেওয়ার কথা ছিল।

তবে বিএসইসির অনুমোদনপ্রাপ্তির তিন বছরেও বেবিচকের অনাপত্তিপত্র না পাওয়া ও কোম্পানিটির শেয়ার দরের সর্বনিম্ন দরের কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। শেয়ার মূল্য কমে যাওয়ায় শেয়ারের পরিবর্তে নগদ অর্থে উড়োজাহাজ সরবরাহে নতুন করে শর্ত দেয় কোম্পানিগুলো। বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ১ টাকা ৬০ পয়সায়।

এদিকে কোম্পানিটি বন্ধ থাকায় বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও ভেস্তে গেছে। ২০১৭ সালের ১৬ জুন বন্ড ইস্যু করে কোম্পানিটিকে ২২৪ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দেয় এসইসি। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) পিছিয়ে আসায় বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে কোনো অর্থই সংগ্রহ করতে পারেনি ইউনাইটেড এয়ার।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে না পেরে ব্যাংকঋণের চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণে সরকার সম্প্রতি যে সুবিধা দিয়েছে, তাতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী

এ বিষয়ে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম পূনরায় শুরু করতে হলে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির সম্পদ বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সরকার খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণের যে সুযোগ দিয়েছে তাতে আমরা চলতি মূলধন জোগাড় করতে পারব বলে আশা করছি।

তাসবিরুল বলেন, কোম্পানি একবার চালু হলে শেয়ার দরও বাড়বে। তখন আমরা শেয়ারের বিনিময়ে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করতে পারব। আবার বন্ড ইস্যু করে অর্থও জোগাড় করতে পারব। এছাড়া বেবিচকের সঙ্গে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেসবেরও সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

ইউনাইটেড এয়ারের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উড়োজাহাজের ‘সি’ চেক (ভারী রক্ষণাবেক্ষণ) করাকে কেন্দ্র করে বেবিচকের সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ বাবদ বকেয়ার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে কোম্পানিটি।

এসব কারণে কোম্পানির ১০টি উড়োজাহাজের সবকটিই একে একে গ্রাউন্ডেড হয়ে পড়ে। এতে ইউনাইটেড এয়ারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২০১৬ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here