স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি খাতে ঋণের লাগাম দিতে এডি রেশিও(এডভান্স ডিপোজিট রেশিও) কমাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থ বছরের প্রথম অর্ধে (জুন-ডিসেম্বর) শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ।  এ সময়ে  ঋণে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য (জানুয়ারি-জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

আপাতদৃষ্টিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ .৫ শতাংশ বাড়ছে মনে হলেও বাস্তবে পূর্বের প্রদানকৃত  বাড়তি ঋণের সমন্বয়ে কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ চাপে পড়বে। তবে নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা আগের মতোই ১৫.৮ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) গভর্নর ফজলে কবির  চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

মুদ্রানীতি ঘোষণায় গভর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও বৈদেশিক ঋণের দায়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগতির সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হবে। ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা(এডি রেশিও) কিছুটা কমানো (যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ) হবে। তবে তা সমন্বয়ে জুন পর্যন্ত সময় পাবে ব্যাংকগুলো। তবে কোন ধরনের ব্যাংকের এডিআর হার কত হবে তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন,  ইতোমধ্যে ২০টি প্রচলিত ধারার ব্যাংক তাদের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর এর সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা তাদের সীমার মধ্যে আসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক অবস্থানে আসতে পারে। তার মতে দুই ভাবে ব্যাংকগুলো এ হার সমন্বয়ের সুযোগ পাবে। আমানাত সংগ্রহ বা ঋণ কমানো।

গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, আমরা ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডি রেশিও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য একটি গাইড লাইন মেনে চলি।এবারও সেই গাইড লাইন মেনে এই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা, এনপিএলসহ (নন পারফরমিং লোন) বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তা নির্ধারণ করা হবে।

নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রার প্রক্ষেপণও কমিয়ে আনা হয়েছে। গত মুদ্রানীতিতে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যদিও অর্জন হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন ঘোষণার তা কমিয়ে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী ও এস এম মুনিরুজ্জামান, প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সল আহমেদ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর ২ বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বরের জন্য অন্যটি জানুয়ারি-জুনের জন্য। সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি প্রক্ষেপণ করে এই মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হলো- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ঋণের জোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here