ঋণখেলাপির তালিকায় জিকে স্টিল

0
236

ডেস্ক রিপোর্ট : খেলাপি ঋণ আদায়ে গত বছর চট্টগ্রামের ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করে পাওনাদার ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের শুরুতেই ঋণখেলাপির তালিকায় যুক্ত হয়েছে জিকে স্টিল লিমিটেড নামে চট্টগ্রামের একটি গ্রুপ।

ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠানটির কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের আটকে গেছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে গ্রুপটির দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা।

ব্যাংকের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান জিকে স্টিলে বড় বিনিয়োগ করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। তবে কয়েক বছর ধরে ইস্পাত খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকটির দুই শাখার প্রায় ৭৫ কোটি টাকা আটকে গেছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার পাওনা ৫৬ কোটি ও ঢাকার পিলখানা রোড শাখার পাওনা ১৯ কোটি টাকা।

আদালতের তথ্যমতে, মেসার্স জিকে স্টিলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুটি মামলা করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখা। এর মধ্যে জিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জিকে স্টিল লিমিটেডের কাছে ব্যাংকটির পাওনা ৪৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯১৭ টাকা। একই গ্রুপের জিকে এসএস পাইপ লিমিটেডের কাছে পাওনা ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৫ টাকা। চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় মামলা এ দুটি।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ইস্পাতের ব্যবসা করে আসছে জিকে স্টিল। বিশেষ করে এসএস পাইপ ও এমএস পাইপ নির্মাণ করত প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম থেকে এ খাতে ভালো ব্যবসাও করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। লোকসানে পড়ে ব্যাংকের পাওনা আটকে গেছে। কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংকের ঋণগুলো শ্রেণীকৃত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে তাগাদা দিয়েও ঋণের টাকা উদ্ধার করতে না পেরে ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা  করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন বলেন, ব্যবসায় মন্দা জিকে স্টিলের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার প্রধান কারণ। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে এসএস ও এমএস পাইপের চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় ধস নামে। তার পরও সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা করতে হয়েছে।

পাওনাদার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসএস ও এমএস পাইপ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে জিকে স্টিল। প্রথমদিকে লেনদেনও খারাপ ছিল না। কিন্তু দেড়-দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধাররা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন না। ঋণ আদায়ে বহু চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ব্যাংক। যদিও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধাররা ঋণ পুনঃতফসিলের চেষ্টা করছেন।

আগ্রাবাদ শাখা ছাড়াও জিকে স্টিলের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংক ঢাকার সীমান্ত স্কোয়ার শাখার (পিলখানা রোড) ১৯ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে, যা এক-দেড় বছর ধরে শ্রেণীকৃত হয়ে আছে।

জিকে স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকির আহমেদ বলেন, ব্যবসা করতে ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নিয়েছি। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন না করায় লোকসান হয়েছে।

এছাড়া আগের সেটআপ থেকে হঠাৎ নতুন খাতে ব্যবসার প্রয়োজনে কারখানায় বড় বিনিয়োগ করতে হয়। এখন ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করেছি, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আশা করি দ্রুতই অনুমোদন পেয়ে যাব। পুনঃতফসিল সুবিধা পেলে নতুন উদ্যমে কারখানা সচল করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here