বিশেষ প্রতিনিধি : অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি সংসদে ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন, যার শীর্ষ দশের বেশির ভাগই পুরনো। তালিকায় নতুন করে উঠে এসেছে সরকারদলীয় দুই সাংসদের প্রতিষ্ঠানের নাম।

তালিকায় থাকা দুই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- রাজধানীর মিরপুরের সরকারদলীয় সাংসদ আসলামুল হকের মালিকানাধীন নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি এবং রাজশাহীর এনামুল হকের নর্দান পাওয়ার সল্যুশন।

শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় এবারো প্রথম স্থানে আছে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের নাম। ২০১৭ সালের ১০ জুলাই সংসদে প্রকাশ করা শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকায়ও শীর্ষে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

দ্বিতীয় শীর্ষ ঋণখেলাপি হিসেবে নাম এসেছে বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের। তালিকায় নতুন করে এসেছে জনতা ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক ও শীর্ষ ঋণখেলাপি চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান রিমেক্স ফুটওয়্যার ও ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস লিমিটেড। এর কর্ণধার দুই সহোদর এমএ আজিজ ও এমএ কাদের।

ঋণের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে তারা বের করে নিয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সংসদে প্রকাশ করা শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় এমএ আজিজের রিমেক্স ফুটওয়্যার রয়েছে তৃতীয় স্থানে এবং ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস লিমিটেড রয়েছে দশম স্থানে।

তালিকায় আরো এসেছে দেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল), যার মালিকানায় ছিলেন বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণধার এইচ এম হাকিম আলীর প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো সিএনজি এসেছে তালিকায়। তার স্ত্রী মনোয়ারা হাকিম আলী এফবিসিসিআইএর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান পরিচালক।

ঋণখেলাপির শীর্ষ ১০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটির নাম রয়েছে দুবার। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে বিসমিল্লাহ টাওয়েলস ও যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল। আর ব্যক্তি দুজন হলেন- এমদাদুল হক ভূঁইয়া ও মজিবর রহমান খান। তালিকায় নতুন করে এসেছে গুলশানের তারকা হোটেল সিক্স সিজন অ্যাপার্টমেন্ট, বরিশালের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালসের নাম।

ঋণখেলাপির তালিকাটি করা হয়েছে ২০১৮ সালের জুনভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। তবে শীর্ষ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কী পরিমাণ ঋণ রয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব কটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের তালিকাও সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে তথ্যে দেখা গেছে, সিআইবি রিপোর্ট জালিয়াতি করে খেলাপিরা নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছেন। খেলাপি ঋণের তথ্য আড়াল করে ঋণ নবায়নও করে নিচ্ছেন।

ঋণসীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন জমা না দিয়েই বেআইনিভাবে এসব সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্রটি। কতিপয় অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঋণখেলাপিরা প্রকৃত সিআইবি প্রতিবেদন গোপন করে এসব জালিয়াতি করছেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) ঋণখেলাপিদের তথ্য সার্বক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব সিআইবিতে ঋণখেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) মহাব্যবস্থাপক মনছুরা খাতুন বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো ঋণখেলাপিই যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকেও নিজস্ব সিআইবি হালনাগাদ রাখার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সাল থেকে ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ছিল শুধু ব্যাংক খাতের ঋণখেলাপি। ২০০৮ সাল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here