উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করছে ৬টি কোম্পানি

0
6694

বিশেষ প্রতিনিধি : কোম্পানির পণ্য উৎপাদনের স্বার্থে কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে অনেকগুলো কোম্পানি। ইতোমধ্যে বিদেশে থেকে অনেক যন্ত্রপাতি আমদানি ও সংযোজন করছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একটি কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তনেরও আভাস মিলেছে।

পণ্য উৎপাদনের সহায়ক ভূমিকা রাখা কোম্পানিগুলো হলো— মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, মালেক স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও হা-ওয়েল টেক্সটাইল।

মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস : উন্নত মানের সুতা উৎপাদনে নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং। প্রচলিত সুতার বাইরে বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদামতো সুতা উৎপাদনে কারখানা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপনগরে বর্তমান কারখানার পাশে নতুন একটি কারখানা তৈরি করা হবে। কারখানা স্থাপন ও যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শেষ করে চলতি বছরের শেষ দিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মালেক স্পিনিং : মূল কোম্পানি এবং দুই সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও জেএম ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের ব্যবসা সম্প্রসারণে ২৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে ৩২ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় মালেক স্পিনিংয়ের বিএমআরই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সাবসিডিয়ারি কোম্পানি সালেক টেক্সটাইল লিমিটেডের ফ্যাব্রিকস ইউনিটের সম্প্রসারণে ১৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

অপর সাবসিডিয়ারি জেএম ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের পর্ষদ নিজেদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ কোটি ৩০ লাখ পিস বাড়াতে ৯২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের (বিএমআরই) পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান কারখানায় নতুন একটি প্রডাক্ট লাইন চালু করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কোম্পানিটির বার্ষিক উৎপাদন-সক্ষমতা ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার পিস থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার পিসে উন্নীত হবে।

রহিম টেক্সটাইল : বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটি নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

২ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার গজ থেকে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার গজে উন্নীত করার লক্ষ্যে কোম্পানিটি জমি ক্রয়, নতুন ভবন নির্মাণ করছে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, কোম্পানির উৎপাদনক্ষমতা বাড়বে বলে কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান।

ম্যাকসন স্পিনিং : মেট্রো গ্রুপের কোম্পানিটি ১৭০ কোটি টাকার দ্বিতীয় প্রকল্প আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চালু করতে যাচ্ছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে ২০০৮ সালে রাইট শেয়ারের নামে আড়াইশ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে দীর্ঘ সময় পরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করছে কোম্পানিটি।

বস্ত্র খাতের কোম্পানি ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড ২০০৮ সালে আইপিওর মাধ্যমে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এরপরই কোম্পানি একটি শেয়ারের বিপরীতে দুই রাইট শেয়ার ইস্যু করে। রাইটে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের দাম নেয়া হয় ২৫ টাকা। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে ১৬২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

একইসঙ্গে চলতি বছরে ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষ কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করবে। অক্টোবরে কোম্পানির পর্ষদ সভা (বোর্ড মিটিং) এবং নভেম্বর মাসে লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য এজিএম করা হবে বলে আভাস মিলেছে। মেট্রো গ্রুপে মেট্রো স্পিনিং নামে আরো একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

হা-ওয়েল টেক্সটাইল: ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানিটি বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয় বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল: উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ১০৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করছে। এসব যন্ত্র জাপান, জার্মানি, ইতালি, কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও সুুইজারল্যান্ড থেকে এসব যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here