উৎপাদন কমায় ইয়াকিন পলিমারের কমেছে মুনাফাও

0
657

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড। আইপিওর পরের বছরেই কোম্পানিটির উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

উৎপাদন কমার প্রভাবে ইয়াকিন পলিমারের বিক্রি ও মুনাফাও কমছে। চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইয়াকিন পলিমারের বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বিক্রি কমার প্রভাবে কোম্পানির মুনাফাও কমেছে।

দেশে ১৭ ধরনের পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনার কারণে কোম্পানিটির পিপি ওভেন ব্যাগের বিক্রি কমেছে।

পাশাপাশি নতুন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্যও কারখানার একটি অংশে বর্তমানে উৎপাদন কাজ বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সক্ষমতার মাত্র এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত সদ্ব্যবহার করতে পারছে কোম্পনিটি, আইপিওর আগে যা ছিল ৭০ শতাংশের বেশি।

সাতক্ষীরার লাবসায় অবস্থিত ইয়াকিন পলিমারের কারখানায় দেখা যায়, কারখানা সচল থাকলেও উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহার করছে কোম্পানিটি। উৎপাদনে ধস নামলেও শ্রমিক ও কর্মকতা-কর্মচারীদের সংখ্যা আগের মতোই আছে। ফলে আয় কমার বিপরীতে ব্যয় কমছে না।

কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই বছর ধরেই কোম্পানির পণ্যের চাহিদা কমছে। চাহিদা কমায় বিক্রিও কমেছে। এ কারণে উৎপাদন অনেক কমে এসেছে। বর্তমানে মোট সক্ষমতার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে, আইপিওতে আসার আগে যা ছিল ৭১ শতাংশ।

এদিকে উৎপাদন কমার প্রভাবে ইয়াকিন পলিমারের বিক্রি ও মুনাফাও কমছে। চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইয়াকিন পলিমারের বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বিক্রি কমার প্রভাবে কোম্পানির মুনাফাও কমেছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৫৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৫ পয়সা।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইপিওতে আসার আগে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধিতে থাকলেও তালিকাভুক্তির বছরই ইয়াকিন পলিমারের মুনাফা কমেছে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ইয়াকিন পলিমার। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৫৮ পয়সা, আগের বছর বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর যা ছিল ৬৬ পয়সা।

উল্লেখ্য, ইয়াকিন পলিমারের উৎপাদিত ব্যাগ মূলত ধান, চাল, গম, চিনি, সার, সবজি ও ফলমূল, পেঁয়াজ, আদা, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য, প্রাণীজ  ও মৎস্য খাদ্য, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পর গত বছর পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ইয়াকিন পলিমার। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে এ অর্থ উত্তোলন করে তারা। এর মধ্যে কারখানার ভবন নির্মাণে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানায় কোম্পানিটি।

ওই বছরের ১০ থেকে ২০ জুলাই চাঁদাগ্রহণ করে অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ২২ সেপ্টেম্বর দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয় কোম্পানিটির। আইপিও তহবিল ব্যবহারসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটি ৬৬ দশমিক ৮১ শতাংশ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ করেছে।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৫২ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১৬ দশমিক ৯৯ ও বাকি ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে সর্বশেষ ২২ টাকা ১০ পয়সায় ইয়াকিন পলিমারের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এর শেয়ারদর সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা ৮০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১৯ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ইস্যুমূল্যের তুলনায় ২২৪ শতাংশ বেড়েছিল।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৩৬ দশমিক ৩৯, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ৪৬ দশমিক ২৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here