উৎপাদনে যাচ্ছে সিভিও, লক্ষ্যমাত্রা বছরে ৫৫ হাজার টন

0
678
123স্টাফ রিপের্টার : সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড শিগগিরই উৎপাদনে যাচ্ছে। সরকারি মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির পর বেসরকারি পর্যায়ে অনুমোদন পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যাচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জ্বালানী খাতের প্রতিষ্ঠান সিভিও বছরে ৫৫ হাজার টন জ্বালানি উৎপাদন করবে বলে বিপিসি জানিয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ টনই আমদানি করতে হয়। যাতে ব্যয় হয় অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা। আমদানিকৃত জ্বালানির মধ্যে ১২ লাখ টন ক্রডওয়েল পরিশোধন করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি। চাহিদার অবশিষ্ট ৩ লাখ টন সুপার রিফাইনারিসহ অন্য ৬ প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে। এখন সিভিও ৫৫ হাজার টন উৎপাদন করলে আমদানিতে ব্যয় হওয়া অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান টেলিফোনে বলেন, দেশের চাহিদা মেটানো, শিল্প বাণিজ্যের প্রসার এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশকটি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিকে প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি দেয় সরকার। এদের মধ্যে সিভিও রিফাইনারিও রয়েছে। অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে যাচ্ছে।
সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির প্রধান কনসালটেন্ট ও সরকারের মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার আবুল ফজল মোহাম্মদ ইসহাক টেলিফানে বলেন, সিভিও রিফাইনারিতে বছরে উৎপাদিত প্রায় ৫৫ হাজার টন জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ৬০ শতাংশ পেট্রল-অকটেন, ১৫ শতাংশ ডিজেল, ১০ শতাশ কেরোসিন এবং ১৫ শতাংশ থিনার।
তিনি জানান, এসব জ্বালানির কাঁচামাল সংগ্রহ হবে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসফিল্ডের গ্যাস কনডেনসেট (গ্যাসফিল্ডের নির্গত তরল) থেকে। তিনি জানান, কাঁচামাল ক্রয় ও উৎপাদনের পর বর্তমান বাজারদরে বিক্রি হলে বছরে অন্তত ২০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আছে সম্ভাবনায় এ প্রতিষ্ঠানের।
জানা যায়, দেশে প্রথমবারের মতো সীসামুক্ত ‘থিনার’ উৎপাদন করবে সিভিও। এরই মধ্যে থিনার ক্রয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে দেশের রং উৎপাদনকারী খ্যাতনামা বার্জার, এশিয়ান পেইন্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে পৃথকভাবে মিলিয়ন ডলার প্রদানেরও প্রস্তাব দিয়েছে।
সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান সামছুল আলম শামীম টেলিফোনে বলেন, ২০১১ সালে সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর প্ল্যান্ট নির্মাণ শুরু করে সম্প্রতি সার্বিক কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও থিনার উৎপাদন হবে। একইসঙ্গে রংয়ে ব্যবহৃত থিনারও উৎপাদন হবে। অফিসিয়াল বোর্ড মিটিং করে ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে খুব দ্রতই উৎপাদন শুরু করা হবে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় বি-১৫২/১৫৩ নাম্বার প্লটে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের প্ল্যান্ট।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিটাগং ভিজিটেবল ওয়েল (সিভিও) ২০১০ সালে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডে রূপান্তরিত হয়। এর আগে চিটাগং ভিজিটেবল ওয়েল ফুলকপি, সয়াবিন তেল, গোল্ড কাপ ঘিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এখন সময়োপয়োগী পদক্ষেপ ও মোটা অংকের বিনিয়োগে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here