উৎপাদনে ব্যর্থ : বাতিল হচ্ছে ৩২টি এলপিজি কোম্পানির লাইসেন্স

0
3395
indexএস বি ডেস্ক : তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজার সম্প্রসারণে নেয়া সরকারি উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। লাইসেন্স নিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্পাদনে আসেনি একটি কোম্পানিও। এর মধ্যে প্লান্ট নির্মাণ শুরু করেনি অধিকাংশ কোম্পানি। অগ্রগতি জানতে চেয়ে ৩২টি কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
বর্তমানে তিন লাখ টন চাহিদার বিপরীতে বছরে সরবরাহ হচ্ছে এক লাখ টনের কম। সরবরাহ বাড়াতে ২০১১ সালের মাঝামাঝি লাইসেন্স দেয়া শুরু করে সরকার। প্রথম দফায় বেসরকারি খাতে ২৫টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। এরপর যোগ হয় আরো সাতটি কোম্পানি। ১৮ মাসের মধ্যে উত্পাদনে আসার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পূরণ করতে পারেনি কোনো কোম্পানি।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি সব উদ্যোক্তার কাছে এলপিজি প্লান্টের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছে। যাদের কাজ শেষ হয়নি, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে তাদের প্লান্ট নির্মাণের অনুমোদন বাতিল করা হবে। এদের অনেকেই ভবিষ্যতে বিক্রি করে দেয়ার জন্য লাইসেন্স নিয়েছেন।
index-2লাইসেন্সপ্রাপ্তদের মধ্যে শীর্ষ কোম্পানি হিসেবে আছে ওরিয়ন, সানোয়ারা, ওরিয়েন্টাল, নাভানা, এনার্জিপ্যাক, বাংলা ট্র্যাক ও আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। এছাড়া আছে সোনার বাংলা গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, মাহমুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, কোস্টাল গ্যাস, ডিক্যান এলপিজি, ইউরো পেট্রো প্রডাক্ট, ক্রিস্টাল এনার্জি, বিএনবি এনার্জি, এফ অ্যান্ড এফ সিস্টেম, প্রমিতা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, গায়েন পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, প্রজ্ঞা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, জেড অ্যান্ড জেড এনার্জি, জোলস পাওয়ার, বিএম এনার্জি, আম্বিয়া ট্যাংক টার্মিনাল অ্যান্ড রিফাইনারি ও আজনা অ্যান্ড আজনা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে জ্বালানিসংকট নিরসনে ব্যাপকভাবে এলপিজি উত্পাদনের জন্য এসব কোম্পানিকে প্লান্ট নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও জ্বালানি বিভাগকে প্লান্টের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানায়নি। ৩২ কোম্পানির মধ্যে দু-একটি ছাড়া কেউ কাজ শুরুই করেনি। যে দু-একটি কাজ শুরু করেছে, তারাও কোনো অগ্রগতি প্রতিবেদন জ্বালানি বিভাগে জমা দেয়নি। ফলে কবে তাদের প্লান্ট নির্মাণের কাজ শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না।
উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে সবার মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে কেউ কেউ জমি অধিগ্রহণ করলেও যন্ত্রপাতি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তাছাড়া অধিক হারে লাইসেন্স প্রদানের কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, বর্তমান বাজারের চাহিদা পূরণে বিদ্যমান পাঁচটি কোম্পানির সঙ্গে নতুন পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির বিনিয়োগ যথেষ্ট।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চিঠিতে নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম উল্লেখ করে কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল তা বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্লান্ট নির্মাণ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে উত্তর দেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, বর্তমানে এলপি গ্যাসের বাজারের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি খাতের চার কোম্পানি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত পাঁচ বছরেও কোনো নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারেনি এ খাতে। তবে নতুন কোম্পানি বাজারে এলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হতো বলে মনে করছে সংস্থাটি। সর্বশেষ এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরন। বেসরকারিভাবে বর্তমানে বাজারজাত করছে বসুন্ধরা, পেট্রিগ্যাস, টোটাল ও যমুনা স্পেসটেক।
এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করতে ২০১১ সালে লাইসেন্স নেয় ওরিয়ন। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে গত বছরের এপ্রিলে বাজারে আসার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তারপর এক বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কারখানা নির্মাণের কাজ। মংলায় জমি অধিগ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল আমিন মোহাম্মদ এনার্জি। এ প্রতিষ্ঠানেরও অগ্রগতি শুধু জমি অধিগ্রহণ। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কারখানার কাজ চলছে। এর বাইরে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে উল্লেখ করার মতো কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।
আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের হেড অব বিজনেস মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও প্রাথমিক সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এক বছর সময় বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে বাংলা ক্যাটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল হক বলেন, ‘অর্থায়নের জন্য বিদেশী বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছি। এ কারণে একটু সময় বেশি লাগছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই আমাদের নিজস্ব জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here