উচ্চ আদালতে এজিএমের অনুমতি চাইবে ওয়েস্টার্ন মেরিন

0
2429
স্টাফ রিপোর্টার : তালিকাভুক্তির এক বছর পরই বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়ে সংকটে পড়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। আইনে বেঁধে দেয়া সময়ে এজিএম করতে না পারায় এরই মধ্যে কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।
তবে সময় পেরিয়ে গেলেও এজিএম করতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ২০১৪-১৫ হিসাব বছরের জন্য এজিএমের দিন ধার্য করতে আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি। গতকাল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ২০১৪-১৫ হিসাব বছর শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। কোম্পানিটির সর্বশেষ এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালের নভেম্বরে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর আইনি বাধ্যবাধকতায় সে বছর দ্রুততম সময়ে এজিএম অনুষ্ঠান করে। তবে গেল হিসাব বছরে পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে না পারার ব্যর্থতায় ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে লভ্যাংশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একই কারণে নির্ধারিত সময়ে এজিএমও হয়নি।

স্বাভাবিক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এজিএমের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে উচ্চ আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির একটি এজিএম অনুষ্ঠানের পর ১৫ মাসের মধ্যে পরবর্তী এজিএম করতে হবে। তবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) সম্মতিক্রমে তা ৯০ দিন অথবা যে পঞ্জিকা বছরের জন্য সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সে বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত— এ দুই সময়ের মধ্যে যেটি আগে হয়, সে মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে। বর্ধিত এ সময়ের মধ্যেও এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থতায় আদালতের নির্দেশে এজিএম আহ্বান ও পরিচালনা করা যাবে।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের এজিএম অনুষ্ঠান করার নির্ধারিত দিন পেরিয়ে গেছে। এখন কোম্পানিটিকে এজিএমের অনুমতি দেয়া আরজেএসসির এখতিয়ারের মধ্যেও নেই। এ অবস্থায় শুধু উচ্চ আদালতের নির্দেশক্রমেই এ কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিছু সমস্যার কারণে আমরা সর্বশেষ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদে পেশ করতে পারিনি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে এজিএমও অনুষ্ঠান করা যায়নি। বিষয়টি আমরা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছি। তবে এখন আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে। এজিএম আহ্বান ও তারিখ ধার্য করার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা পেলে আশা করছি শিগগিরই এজিএম করতে পারব।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে এজিএম করতে না পারায় গত ৩ জানুয়ারি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডকে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। ফলে এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগছে এবং এর শেয়ার কেনার জন্য কোনো মার্জিন ঋণ পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটিকে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে গত বছরের শেষ সময়ে ব্যবসায় কিছুটা সফলতা এসেছে। সর্বশেষ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ৬৯ পয়সা। এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান দর ২৫ টাকা ২০ পয়সা।

২০১৩-১৪ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। ওয়েস্টার্ন মেরিনের পরিশোধিত মূলধন ১২০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

ওয়েস্টার্ন মেরিন ২০১৪ সালে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পায়। সে সময় সাড়ে চার কোটি শেয়ার ছেড়ে ১৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। সংগৃহীত অর্থের ৮২ শতাংশ দিয়ে তারা ব্যাংকঋণ পরিশোধ করে। বাকি অর্থ কোম্পানির অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে খরচ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here