ইভিন্স টেক্সটাইলসের আইপিও অর্থ ব্যবহার, বেড়েছে উৎপাদন

0
582

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফিনিশিং লাইনেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড। এর ফলে উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরির সক্ষমতা বেড়েছে তাদের, যা কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন এর কর্মকর্তারা।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী প্রচলিত পণ্যের মূল্য কমেছে। এর বদলে বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা ও মূল্য দুটোই বাড়ছে। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। আইপিও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বর্তমানে কোম্পানিটির এ ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে। এতে কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডাররা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন তারা।

ইভিন্স টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, আইপিওর অর্থে আমরা কারখানায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার ও সংযোজনের কাজ করেছি। ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির সক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যেই আইপিও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। অন্যদিকে কোম্পানির ব্যবসায় অপশন ও ফ্লেক্সিবিলিটি বেড়েছে।

তিনি বলেন, নতুন করে আরো কিছু লুম ও যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। এজন্য বিদ্যমান ভবন ও স্থাপনা পরিসরও বাড়াতে হয়েছে। তাছাড়া আমরা কারখানার ফিনিশিং লাইনেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। এতে করে আগের তুলনায় আরো বেশি উন্নত মানের ফিনিশড পণ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল-মের দিকে আইপিও প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ভবন নির্মাণ, চলতি মূলধন ও আইপিওর ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৭০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১৭ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে ইভিন্স টেক্সটাইলস।

কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে, ভবন নির্মাণ বাবদ ২ কোটি ৫৫ লাখ, যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ১১ কোটি ৪২ লাখ, চলতি মূলধন খাতে ১ কোটি ৫৪ লাখ ও আইপিওর ব্যয় নির্বাহে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন আইপিওর অর্থ ব্যয় পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। এজন্য ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ভবন নির্মাণ বাবদ ৭ কোটি ৭৫ লাখ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হয়।

ইভিন্স টেক্সটাইলসের আইপিও তহবিল ব্যয়সংক্রান্ত নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই ব্যবহার করেছে। আর কোম্পানিটির আইপিও অর্থ ব্যয়ের শেষ সময় ছিল গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর।

২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইলস। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা। ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৭৩ পয়সায় এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২৫ পয়সা। সে হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পান ইভিন্স টেক্সটাইলসের শেয়ারহোল্ডাররা।

ডিএসইতে ইভিন্স টেক্সটাইলস শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এর সর্বোচ্চ দর ছিল ২৭ টাকা ৬০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১৪ টাকা ২০ পয়সা।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন সাড়ে ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৫৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here