`আইনি জটিলতায়’ ইন্দো-বাংলার আইপিও স্থগিত

0
1541

বিশেষ প্রতিনিধি : ব্যাংকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়ায় ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। কোম্পানির আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে  প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিষয়টি উচ্চ আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।

পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় রোববার আইপিওর চাঁদা গ্রহণ শুরু করতে পারছে না কোম্পানিটি। তবে আইনি বিবাদ মিটিয়ে দ্রুতই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড বরিশালের অর্থঋণ আদালতে এ কোম্পানির কাছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা খেলাপি দাবি করে একটি মামলা করে, যা চলমান রয়েছে।

আইপিও প্রক্রিয়া এগোনোর পর তাতে স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ কোম্পানিটির আইপিও প্রক্রিয়ার ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন চেম্বার বেঞ্চ। এদিকে আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর চলতি সপ্তাহে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আপিল করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে কোম্পানির আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখান থেকে আপিল আবেদনটি উচ্চ আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির কথা বলে দেয়া হয়। অর্থাৎ চেম্বার বেঞ্চের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়নি। এ কারণে রোববার থেকে আইপিও চাঁদা গ্রহণের পরিকল্পনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে চাঁদা গ্রহণের পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পূর্ববর্তী নাম ছিল ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস। সে নামেই ব্যাংকের কাছ থেকে কোম্পানিটি ঋণ নিয়েছিল। কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক এতে গ্যারান্টর ছিলেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধ না করায় তারা ব্যাংকের কাছে খেলাপি বিবেচিত হয়েছেন। এ কারণেই বরিশালের অর্থঋণ আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার ঋণখেলাপির মামলা করা হয়েছে। পরিচালক খেলাপি ঋণের গ্যারান্টর হওয়ায় চেম্বার আদালতে তাদের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতেরও আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্দো-বাংলা ফার্মার কোম্পানি সচিব শামীম গাজী বলেন, অর্থঋণ আদালতে আমাদের কোম্পানির সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো মামলা নেই। কোম্পানির পরিচালকরাও ঋণখেলাপি নন। তারা যে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো ঋণের গ্যারান্টর ছিলেন না, এ বিষয়ে একটি মামলাও চলমান। আমাদের পরিচালকরা যদি ঋণখেলাপি হতেন, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনেই সেটি উঠে আসত। আমরা আপিল করেছি।

আশা করছি, উচ্চ আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হব যে, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বা এর কোনো পরিচালকই ঋণখেলাপি নন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা আইপিও প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে আইনি জটিলতায় আপাতত চাঁদা গ্রহণ শুরু করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ৮ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইন্দো-বাংলা ফার্মার আইপিও চাঁদা গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬১৩তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে অভিহিত মূল্যে শেয়ার বেচে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়।

ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার কলেজ রোডে কোম্পানিটির কারখানা অবস্থিত। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাদের কারখানায় উত্পাদন শুরু হয়। কোম্পানিটি দেশের বাজারে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির ওষুধ উত্পাদন করে। তাছাড়া ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিকও উত্পাদন করে তারা। এর বাইরে ভেটেরিনারি ওষুধ উত্পাদন ও বিক্রির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ২০ কোটি টাকার মধ্যে কারখানা, প্রশাসনিক ভবন, গুদাম ও গ্যারেজ নির্মাণ খাতে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ও আইপিও খরচ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি। আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে তহবিল ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে এ কোম্পানির ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে, আইপিও-পূর্ব শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। সে বছর ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১১ টাকা ৬৩ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here